ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ Logo মজুরি বোর্ড – ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো Logo ভিভো ভি৮০-এর রং, ডিজাইন ও ক্যামেরায় মুগ্ধ হবে সবাই! Logo স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক (DFO) ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, পাইলটদের পদোন্নতিতে বৈষম্য, নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন এবং তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি গণমাধ্যমে ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, DFO পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে পাইলটদের পাস-ফেল করানোর চর্চায় জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে ফার্স্ট অফিসার মহসিন কামাল বলাকা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি DFO পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্তের নথি ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।

পাঁচ পাইলটের লাইসেন্স তদন্ত নিয়ে বিতর্ক

পাঁচজন পাইলটের লাইসেন্সসংক্রান্ত তদন্তের সময় নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পাইলটদের চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের উত্থাপিত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—

১. সংকটকালে বিদেশে অবস্থান: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে Safety Aviation Group-এর দায়িত্বে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে ছুটিতে অবস্থান ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ।

২. বিদেশে সিমুলেটর প্রশিক্ষণ: দাপ্তরিক সভা ও দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থেকে ঘন ঘন বিদেশে সিমুলেটর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ এবং TA/DA গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ।

৩. ক্যাপ্টেন ইন্তেখাবকে বিশেষ সুবিধা: অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা অবস্থায় CAAB-এর DCP কোর্সে অংশগ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।

৪. ক্যাপ্টেন শুমেইলার FDTL বিতর্ক: DAC–SIN–DAC রুটে FDTL লঙ্ঘনসংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।

৫. ক্যাপ্টেন শাহানাকে বিশেষ সুবিধা: B777 ফ্লিটে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁকে সুবিধা দেওয়ার বিপরীতে আটজন ফার্স্ট অফিসারকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখার অভিযোগ।

৬. অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ফজলের নিয়োগ: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ফজলকে বিজনেস ক্লাসের টিকিট, পাঁচ তারকা হোটেল ও TA/DA সুবিধা দিয়ে সিমুলেটর ক্রু নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত করার অভিযোগ।

৭. ক্যাডেট সাদিফের প্রশিক্ষণে অনিয়ম: প্রশিক্ষণ মূল্যায়নে ব্যর্থতা ও রুট চেকসংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দুটি সমন্বয় সভা এবং ১৬টি অতিরিক্ত রুট প্রশিক্ষণ সেক্টর অনুমোদনের অভিযোগ। এ বিষয়ে OM-D Part A.9.2(c) লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

৮. ক্যাপ্টেন সাজ্জাদের বিষয়ে অনিয়ম: অসুস্থতা ও লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পূর্ণ বেতনে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগ।

৯. ক্যাপ্টেন তাপসকে দায়িত্ব না দেওয়া: B787 ফ্লিটে ক্রু সংকট থাকা সত্ত্বেও অনুমোদিত ক্যাপ্টেন তাপসকে তিন থেকে চার মাস নিয়মিত দায়িত্ব না দিয়ে অন্য ক্যাপ্টেনের অধীনে সেকেন্ড পাইলট হিসেবে রাখার অভিযোগ।

১০. ফ্লিটভিত্তিক বৈষম্য: B777 ও B737 ফ্লিটে SFE/SFI-এর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও B787 ফ্লিটের পাইলটদের পরীক্ষক হিসেবে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ।

১১. দুবাই হোটেলকেন্দ্রিক ঘটনা: ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুবাইয়ের Pullman Hotel-এ ফার্স্ট অফিসার মোহাম্মদ রুবাব ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে DFO-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

১২. ফার্স্ট অফিসার মহসিনের পদোন্নতি স্থগিত: পূর্বে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে পদোন্নতি আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩. বিভাগীয় শৃঙ্খলার অবনতি: ক্যাপ্টেন আনিসের ঘটনাসহ ফ্লাইট অপারেশন বিভাগে তদারকি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগ।

১৪. তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ: পাঁচ পাইলটের তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ।

১৫. Narita Stay ও B777 W-Pattern: নিজস্ব ফ্লিটের স্বার্থে Narita Stay-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং লাভজনক B777 W-Pattern পরিচালনা বাতিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

১৬. ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর FDTL লঙ্ঘন: সকালে ফ্লাইট পরিচালনা ও সারাদিন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পর বাধ্যতামূলক বিশ্রামকাল যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সন্ধ্যায় পুনরায় B787 কাঠমান্ডু ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ।

রাজনৈতিক পটভূমি নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের আগে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (পরিকল্পনা) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাক ও দেশকাল নিউজে প্রকাশিত সংবাদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও দায়িত্বকালীন নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

দুবাই হোটেল ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশের দাবি

দুবাইয়ের Pullman Hotel-এ ফার্স্ট অফিসার মোহাম্মদ রুবাব ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে ডিসেম্বর ২০২৫-এর Safety Investigation Report-এ সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এতে Rivotril 1mg সেবনজনিত মানসিক বিভ্রান্তি এবং Operations Manual Part A-এর 6.1.5, 6.1.6 ও 6.1.7 ধারা এবং Biman Service Rules-এর Clause 56 লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের মূল কপি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাচাই ছাড়া এ সুপারিশকে কার্যকর শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

পাঁচ দফা দাবি

উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

১. ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামকে DFO পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ।

২. জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে B787 ফ্লিটের ক্যাপ্টেন শাফিকে নতুন DFO হিসেবে নিয়োগ।

৩. ক্যাডেট সাদিফের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে অতিরিক্ত সমন্বয় সভা ও ১৬টি অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেক্টরের অনুমোদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪. ফার্স্ট অফিসার মহসিনসহ পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

৫. DFO আমিনুলের দায়িত্বকালীন অভিযোগ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি ফাঁসের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
অভিযোগকারীরা মনে করছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, পদোন্নতি ও ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রশাসনিক অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক (DFO) ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, পাইলটদের পদোন্নতিতে বৈষম্য, নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন এবং তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি গণমাধ্যমে ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, DFO পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে পাইলটদের পাস-ফেল করানোর চর্চায় জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে ফার্স্ট অফিসার মহসিন কামাল বলাকা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি DFO পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্তের নথি ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।

পাঁচ পাইলটের লাইসেন্স তদন্ত নিয়ে বিতর্ক

পাঁচজন পাইলটের লাইসেন্সসংক্রান্ত তদন্তের সময় নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পাইলটদের চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের উত্থাপিত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—

১. সংকটকালে বিদেশে অবস্থান: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে Safety Aviation Group-এর দায়িত্বে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে ছুটিতে অবস্থান ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ।

২. বিদেশে সিমুলেটর প্রশিক্ষণ: দাপ্তরিক সভা ও দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থেকে ঘন ঘন বিদেশে সিমুলেটর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ এবং TA/DA গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ।

৩. ক্যাপ্টেন ইন্তেখাবকে বিশেষ সুবিধা: অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা অবস্থায় CAAB-এর DCP কোর্সে অংশগ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।

৪. ক্যাপ্টেন শুমেইলার FDTL বিতর্ক: DAC–SIN–DAC রুটে FDTL লঙ্ঘনসংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।

৫. ক্যাপ্টেন শাহানাকে বিশেষ সুবিধা: B777 ফ্লিটে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁকে সুবিধা দেওয়ার বিপরীতে আটজন ফার্স্ট অফিসারকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখার অভিযোগ।

৬. অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ফজলের নিয়োগ: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ফজলকে বিজনেস ক্লাসের টিকিট, পাঁচ তারকা হোটেল ও TA/DA সুবিধা দিয়ে সিমুলেটর ক্রু নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত করার অভিযোগ।

৭. ক্যাডেট সাদিফের প্রশিক্ষণে অনিয়ম: প্রশিক্ষণ মূল্যায়নে ব্যর্থতা ও রুট চেকসংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দুটি সমন্বয় সভা এবং ১৬টি অতিরিক্ত রুট প্রশিক্ষণ সেক্টর অনুমোদনের অভিযোগ। এ বিষয়ে OM-D Part A.9.2(c) লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

৮. ক্যাপ্টেন সাজ্জাদের বিষয়ে অনিয়ম: অসুস্থতা ও লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পূর্ণ বেতনে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগ।

৯. ক্যাপ্টেন তাপসকে দায়িত্ব না দেওয়া: B787 ফ্লিটে ক্রু সংকট থাকা সত্ত্বেও অনুমোদিত ক্যাপ্টেন তাপসকে তিন থেকে চার মাস নিয়মিত দায়িত্ব না দিয়ে অন্য ক্যাপ্টেনের অধীনে সেকেন্ড পাইলট হিসেবে রাখার অভিযোগ।

১০. ফ্লিটভিত্তিক বৈষম্য: B777 ও B737 ফ্লিটে SFE/SFI-এর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও B787 ফ্লিটের পাইলটদের পরীক্ষক হিসেবে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ।

১১. দুবাই হোটেলকেন্দ্রিক ঘটনা: ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুবাইয়ের Pullman Hotel-এ ফার্স্ট অফিসার মোহাম্মদ রুবাব ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে DFO-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

১২. ফার্স্ট অফিসার মহসিনের পদোন্নতি স্থগিত: পূর্বে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে পদোন্নতি আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩. বিভাগীয় শৃঙ্খলার অবনতি: ক্যাপ্টেন আনিসের ঘটনাসহ ফ্লাইট অপারেশন বিভাগে তদারকি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগ।

১৪. তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ: পাঁচ পাইলটের তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ।

১৫. Narita Stay ও B777 W-Pattern: নিজস্ব ফ্লিটের স্বার্থে Narita Stay-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং লাভজনক B777 W-Pattern পরিচালনা বাতিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ।

১৬. ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর FDTL লঙ্ঘন: সকালে ফ্লাইট পরিচালনা ও সারাদিন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পর বাধ্যতামূলক বিশ্রামকাল যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সন্ধ্যায় পুনরায় B787 কাঠমান্ডু ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ।

রাজনৈতিক পটভূমি নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের আগে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (পরিকল্পনা) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাক ও দেশকাল নিউজে প্রকাশিত সংবাদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও দায়িত্বকালীন নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

দুবাই হোটেল ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশের দাবি

দুবাইয়ের Pullman Hotel-এ ফার্স্ট অফিসার মোহাম্মদ রুবাব ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে ডিসেম্বর ২০২৫-এর Safety Investigation Report-এ সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এতে Rivotril 1mg সেবনজনিত মানসিক বিভ্রান্তি এবং Operations Manual Part A-এর 6.1.5, 6.1.6 ও 6.1.7 ধারা এবং Biman Service Rules-এর Clause 56 লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের মূল কপি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাচাই ছাড়া এ সুপারিশকে কার্যকর শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

পাঁচ দফা দাবি

উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

১. ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামকে DFO পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ।

২. জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে B787 ফ্লিটের ক্যাপ্টেন শাফিকে নতুন DFO হিসেবে নিয়োগ।

৩. ক্যাডেট সাদিফের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে অতিরিক্ত সমন্বয় সভা ও ১৬টি অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেক্টরের অনুমোদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪. ফার্স্ট অফিসার মহসিনসহ পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

৫. DFO আমিনুলের দায়িত্বকালীন অভিযোগ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং তদন্তসংক্রান্ত গোপনীয় নথি ফাঁসের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
অভিযোগকারীরা মনে করছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, পদোন্নতি ও ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রশাসনিক অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।