ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন Logo হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসত বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার Logo শতাব্দীর পুরনো পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা, নীরব প্রশাসন: নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মানববন্ধন Logo ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: গালিবাফ Logo টানা কয়েকটি সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়, যা ঘটেছিল রাধিকা আপ্তের সঙ্গে Logo এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেট • লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ, ১১৪ রানে জিতে ফাইনালে ভারত Logo দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারি ক্রয় আইনে সংশোধন

গাজীপুরে বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে কোপাল শ্যালক ও ভাগিনা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১৫ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন নাগা এলাকায় ৭০বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে তার শ্যালক ও শ্যালকের ছেলে। প্রকাশ্যে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসময় ঐ বৃদ্ধের স্বজনের কান্নাকাটি করলেও তাকে ছাড়েনি পাষন্ডরা। পরে গুরুতর আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

আহত বৃদ্ধ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাগা এলাকার ওমেদ আলী (৬৫)। জমিতে গরু প্রবেশে নিষেধ করার অপরাধে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়।
ঘটনার পর বৃদ্ধের মেয়ে ওহেদা খাতুন বাদি হয়ে গাজীপুর মহানগর সদর মেট্রো থানায় বৃদ্ধের শ্যালক সাহিদ, তার স্ত্রী রেবেকা ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পতিত জমিতে বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে মাটিতে ফেলে শ্যালক সাদিক পেটাচ্ছে এবং তার ছেলে সাদ্দাম ধারালো দা দিয়ে এলোপাথারি কোপাচ্ছে। এসময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী চিৎকার করছেন, সাহায্যের জন্য আর্তি জানাচ্ছেন। কিন্তু আশপাশের কেউ বাধা দিতে বা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।

বৃদ্ধের মেয়ে ওহিদা খাতুন বলেন, আমার বাবা বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের পাশেই ছোট ঘর তুলে থাকে। মসজিদের আশপাশে বেঁড়া সীমানা ও বিভিন্ন সবজি গাছ লাগিয়ে আমার বাবা সংসার চালান। বিভিন্ন সময় আমার মামার গরু ওই শাক সবজি ও বিভিন্ন ধরণের লাগানো গাছপালা খেয়ে ফেলে। এনিয়ে বাবা বিভিন্ন সময় সতর্ক করেছিল। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা ও গাছ পালা রক্ষার জন্য তার মামাকে বার বার সতর্ক করার পরও সে (মামা) শুনেননি। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক হলে মামা বাড়ি চলে যায়। পরে বাবা মসজিদের পাশে বাঁশ দিয়ে বেঁড়া নির্মাণের কাজ করছিল। বিষয়টি নিয়ে মামার বাড়িতে আলোচনা হয়। পরে আবার ফিরে এসে মামা সাহিদ ও মামাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন বাঁশ ও কাঠের শক্ত লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করে। বাঁশ ও কাঠের লাঠি ভেঙ্গে গেলে বাবার কাজ করা দা নিয়ে তাকে এলোপাথারি কোপায়। পরে আমরা গিয়ে দ্রুত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, কোপানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওরা নিজেরাই হাত তাদের কেটে সাহিদও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পুলিশ পাহারায় রয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামি সাহিদ নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন, এমন ঘটনা সাজাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে রিলিজ করে দেয়া হয়। তিনি দাবী করেন, আমাকেও সে (বৃদ্ধ) পিটিয়েছে, আমার স্ত্রীকেও মারধর করেছে। পরে আমার ছেলে রেগে গিয়ে তার উপর আক্রমণ করেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ রাফিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ভিডিওটি দেখেছি। আমারই ভয় লেগেছিল। হাসপাতালে আহত বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে দেখেছি। তিনি ও আসামীরা শ্যালক-দুলাভাই। মামলার আসামি সাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গাজীপুরে বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে কোপাল শ্যালক ও ভাগিনা

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন নাগা এলাকায় ৭০বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে তার শ্যালক ও শ্যালকের ছেলে। প্রকাশ্যে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসময় ঐ বৃদ্ধের স্বজনের কান্নাকাটি করলেও তাকে ছাড়েনি পাষন্ডরা। পরে গুরুতর আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

আহত বৃদ্ধ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাগা এলাকার ওমেদ আলী (৬৫)। জমিতে গরু প্রবেশে নিষেধ করার অপরাধে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়।
ঘটনার পর বৃদ্ধের মেয়ে ওহেদা খাতুন বাদি হয়ে গাজীপুর মহানগর সদর মেট্রো থানায় বৃদ্ধের শ্যালক সাহিদ, তার স্ত্রী রেবেকা ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পতিত জমিতে বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে মাটিতে ফেলে শ্যালক সাদিক পেটাচ্ছে এবং তার ছেলে সাদ্দাম ধারালো দা দিয়ে এলোপাথারি কোপাচ্ছে। এসময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী চিৎকার করছেন, সাহায্যের জন্য আর্তি জানাচ্ছেন। কিন্তু আশপাশের কেউ বাধা দিতে বা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।

বৃদ্ধের মেয়ে ওহিদা খাতুন বলেন, আমার বাবা বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের পাশেই ছোট ঘর তুলে থাকে। মসজিদের আশপাশে বেঁড়া সীমানা ও বিভিন্ন সবজি গাছ লাগিয়ে আমার বাবা সংসার চালান। বিভিন্ন সময় আমার মামার গরু ওই শাক সবজি ও বিভিন্ন ধরণের লাগানো গাছপালা খেয়ে ফেলে। এনিয়ে বাবা বিভিন্ন সময় সতর্ক করেছিল। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা ও গাছ পালা রক্ষার জন্য তার মামাকে বার বার সতর্ক করার পরও সে (মামা) শুনেননি। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক হলে মামা বাড়ি চলে যায়। পরে বাবা মসজিদের পাশে বাঁশ দিয়ে বেঁড়া নির্মাণের কাজ করছিল। বিষয়টি নিয়ে মামার বাড়িতে আলোচনা হয়। পরে আবার ফিরে এসে মামা সাহিদ ও মামাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন বাঁশ ও কাঠের শক্ত লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করে। বাঁশ ও কাঠের লাঠি ভেঙ্গে গেলে বাবার কাজ করা দা নিয়ে তাকে এলোপাথারি কোপায়। পরে আমরা গিয়ে দ্রুত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, কোপানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওরা নিজেরাই হাত তাদের কেটে সাহিদও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পুলিশ পাহারায় রয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামি সাহিদ নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন, এমন ঘটনা সাজাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে রিলিজ করে দেয়া হয়। তিনি দাবী করেন, আমাকেও সে (বৃদ্ধ) পিটিয়েছে, আমার স্ত্রীকেও মারধর করেছে। পরে আমার ছেলে রেগে গিয়ে তার উপর আক্রমণ করেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ রাফিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ভিডিওটি দেখেছি। আমারই ভয় লেগেছিল। হাসপাতালে আহত বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে দেখেছি। তিনি ও আসামীরা শ্যালক-দুলাভাই। মামলার আসামি সাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।