ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি Logo গাউকের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণ, পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন Logo পূজা চেরীকে একেক দিন একেক ড্রেসে দেখার দাবি Logo বাংলাদেশ কি দেশের বাইরে জিততে ভুলে যাচ্ছে? Logo মার্কিন সাংবাদিকের ওপর ইসরায়েলিদের হামলা, কঠোর শাস্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র Logo বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের সম্ভাবনা Logo দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত: জরিপ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দাবায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Logo টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বাউবিতে কারিকুলাম সভা

গাউকের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণ, পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিক আশরাফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। অনুমোদিত নকশা না থাকা, পুকুর শ্রেণির জমিতে ভবন নির্মাণ এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাঁকে ঘিরে।
ভবনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগড়া-বাসন সড়কের মুন্সীবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ইকবালের অভিযোগের পর গাউক সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশা চেয়ে নোটিশ দেয়। নকশা দাখিল না করায় পরবর্তী সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজ ও ভবনটির ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নির্মাণকাজের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ঝুঁকি তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।
গাউকের নথি অনুযায়ী, সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ভবনমালিকের কাছে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণের মঞ্জুরিপত্র চাওয়া হলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরিদর্শনের সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গাউক অনুমোদিত নকশা ও মঞ্জুরিপত্র দাখিলের জন্য আশরাফুল ইসলাম খানকে নোটিশ দেয়। সাত দিনের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হলেও তা না পাওয়ায় ৭ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। এতে সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়, কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
একই নোটিশে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির নির্মাণকাজ ও ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশের অনুলিপি গাজীপুর মহানগর পুলিশ, বাসন থানা, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকেও পাঠানো হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্দেশনা অমান্য করেই ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম খান। কিন্তু বিদ্যুতের লাইন নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে কাজ চালাচ্ছেন। দ্বিতীয় তলার ছাদ সম্পূর্ণ এবং বাড়ির দ্বিতীয় তলার দেয়ালের নির্মাণ কাজ চলমান।
ভবন নির্মাণ ঘিরে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনেও ঝুঁকির কথা জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সংস্থাটির চিঠিতে বলা হয়েছে, কড্ডা গ্রিড উপকেন্দ্রের এল-১২ ফিডারের ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের একটি ফেজের তার নির্মাণকাজের সময় রশি দিয়ে টেনে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে লাইনে অতিরিক্ত টান সৃষ্টি হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে উল্লেখ করে চিঠিতে রশি অপসারণ এবং বিদ্যুৎ লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।
রফিকুল ইসলাম ইকবাল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত পুকুর শ্রেণিভুক্ত। ড্যাপের নকশা অনুযায়ী এখানে ওয়াটার বডি ৯৪.৩৪ পার্সেন্ট। যেখানে কোন প্রকার স্থাপনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। গাউকের নির্দেশনা থাকার পরও ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের তার রশি দিয়ে টেনে বেঁধে আশরাফুল ইসলাম কোন ক্ষমতার বলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা আমি জানি না। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার চাই।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জমিটি গাজীপুর জেলার বাসন থানার ভোগড়া মৌজায় অবস্থিত। জমির পরিমাণ ৭.১৪ শতাংশ। এতে সি.এস. ১৫২/১, এস.এ. ১৬৬, আর.এস. ২৩, সি.এস. ও এস.এ. ১১৯২ এবং আর.এস. ১৬৫৫ নম্বর দাগের উল্লেখ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, এসব বিষয়ে আমি ফোনে কথা বলতে রাজি না।

ট্যাগস :

গাউকের নির্দেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণ, পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিক আশরাফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। অনুমোদিত নকশা না থাকা, পুকুর শ্রেণির জমিতে ভবন নির্মাণ এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাঁকে ঘিরে।
ভবনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগড়া-বাসন সড়কের মুন্সীবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ইকবালের অভিযোগের পর গাউক সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশা চেয়ে নোটিশ দেয়। নকশা দাখিল না করায় পরবর্তী সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজ ও ভবনটির ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নির্মাণকাজের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ঝুঁকি তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।
গাউকের নথি অনুযায়ী, সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ভবনমালিকের কাছে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণের মঞ্জুরিপত্র চাওয়া হলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরিদর্শনের সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গাউক অনুমোদিত নকশা ও মঞ্জুরিপত্র দাখিলের জন্য আশরাফুল ইসলাম খানকে নোটিশ দেয়। সাত দিনের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হলেও তা না পাওয়ায় ৭ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। এতে সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়, কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
একই নোটিশে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির নির্মাণকাজ ও ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশের অনুলিপি গাজীপুর মহানগর পুলিশ, বাসন থানা, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকেও পাঠানো হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্দেশনা অমান্য করেই ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম খান। কিন্তু বিদ্যুতের লাইন নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে কাজ চালাচ্ছেন। দ্বিতীয় তলার ছাদ সম্পূর্ণ এবং বাড়ির দ্বিতীয় তলার দেয়ালের নির্মাণ কাজ চলমান।
ভবন নির্মাণ ঘিরে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনেও ঝুঁকির কথা জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সংস্থাটির চিঠিতে বলা হয়েছে, কড্ডা গ্রিড উপকেন্দ্রের এল-১২ ফিডারের ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের একটি ফেজের তার নির্মাণকাজের সময় রশি দিয়ে টেনে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে লাইনে অতিরিক্ত টান সৃষ্টি হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে উল্লেখ করে চিঠিতে রশি অপসারণ এবং বিদ্যুৎ লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।
রফিকুল ইসলাম ইকবাল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত পুকুর শ্রেণিভুক্ত। ড্যাপের নকশা অনুযায়ী এখানে ওয়াটার বডি ৯৪.৩৪ পার্সেন্ট। যেখানে কোন প্রকার স্থাপনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। গাউকের নির্দেশনা থাকার পরও ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের তার রশি দিয়ে টেনে বেঁধে আশরাফুল ইসলাম কোন ক্ষমতার বলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা আমি জানি না। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার চাই।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জমিটি গাজীপুর জেলার বাসন থানার ভোগড়া মৌজায় অবস্থিত। জমির পরিমাণ ৭.১৪ শতাংশ। এতে সি.এস. ১৫২/১, এস.এ. ১৬৬, আর.এস. ২৩, সি.এস. ও এস.এ. ১১৯২ এবং আর.এস. ১৬৫৫ নম্বর দাগের উল্লেখ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, এসব বিষয়ে আমি ফোনে কথা বলতে রাজি না।