সাদাছড়ি দেখেও থামে না গাড়ি, মেলে না কাজ
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পঠিত

জাহিদ হাসান ভূঁইয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন মুকলেসুর রহমান। শিক্ষকতা করেছেন, বই লিখেছেন, জীবিকার তাগিদে ছোট ব্যবসাও করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও এখন তিনি বেকার। তাঁর অভিযোগ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা তাঁর যোগ্যতাকে বারবার আড়াল করে দিয়েছে; কর্মক্ষেত্রে জায়গা হয়নি প্রাপ্য মর্যাদারও। শিক্ষার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াই চালানো এই মানুষটির সামনে এখন একটাই প্রশ্ন- যোগ্যতা অর্জনের পরও কাজের সুযোগ কোথায়?
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাণিয়াপাড়া গ্রামের মুকলেসুরের বয়স এখন প্রায় ৪৩ বছর। শৈশবে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর আড়াই বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান বলে জানান তাঁর পরিবার। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তবু তাঁর জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ প্রান্তে এসে স্থায়ী কর্মসংস্থানের বদলে জুটেছে অনিশ্চয়তা।
মুকলেসুরের ভাষ্য, ২০২৩ সালে টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে খণ্ডকালীন ইংরেজি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। মাসিক বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই নানা বৈষম্যের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ তাঁর। প্রথমে ইংরেজি পড়ানোর সুযোগ পেলেও পরে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য বিষয় পড়াতে বলা হয়। সহকর্মীদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাঁকে এবং অন্য খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বাদ দেন বলে জানান মুকলেসুর। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি বেকার।
তাঁর অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময় ঘুষ দাবি করা হয়েছে। এমনকি একটি নিয়োগের জন্য ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মুকলেসুরের জীবনের গল্প শুধু চাকরি হারানোর নয়; কাজের সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে বারবার নতুন করে শুরু করার গল্পও। একসময় বাসে চকলেট বিক্রি করেছেন। পরে ছোট কম্পিউটার, মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশের দোকান চালিয়েছেন। নিজের জীবনের কথা নিয়ে লিখেছেন ‘আমার জীবনী’ বই। এখনো তাঁর স্বপ্ন-অভিনয়, গান কিংবা রাজনীতির মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু স্বপ্নের পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি স্থায়ী কাজই এখনো অধরা।
মুকলেসুরের এই লড়াইয়ের আরেকটি দৃশ্য দেখা যায় গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলগেটে। হাতে সাদাছড়ি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজু হোসেন। চারপাশে যানবাহন চলছিল, মানুষও পার হচ্ছিল; কিন্তু তাঁর নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা মিলছিল না। সাদাছড়ি তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার পরিচয়, আবার চলাচলের স্বাধীনতারও প্রতীক। অথচ সেই ছড়ি দেখেও পথ যেন তাঁর জন্য সহজ হয় না।
রংপুরের বদরগঞ্জের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা রাজু এখন থাকেন গাজীপুরের রথখোলায়। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। পড়াশোনা করছেন ডিগ্রির দ্বিতীয় বর্ষে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্ক্রিন রিডার ব্যবহারে দক্ষ; অন্যদেরও এ বিষয়ে শেখাতে পারেন। তাঁর স্ত্রীও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান শেষ করেছেন। তবু তাঁদের দুজনের জন্যই স্থায়ী কর্মসংস্থান বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজুর কথায়, “আমি আর শুধু আশ্বাস শুনতে চাই না। আমি চাই, আমার যোগ্যতা যাচাই করে আমাকে একটি কাজের সুযোগ দেওয়া হোক। আমি কারও দয়া চাই না; আমি নিজের শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে উপার্জন করতে চাই।”
রাজুর মতোই কাজের সুযোগ না পেয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে গাজীপুরের এরশাদনগরে বসবাসকারী সজল মিয়া ও রাশিদা বেগমের। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেলঘাটি গ্রামের এই দম্পতি জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁদের বিয়ে হয়েছে ১০ বছর আগে; দুই সন্তান রয়েছে। সজল নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাশিদা বদরুন্নেসা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁদের জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। কাজ না পেয়ে তাঁরা ভিক্ষা করে সংসার চালান।
সজলের আক্ষেপ, ‘সবারই তো ইচ্ছে হয় সম্মান নিয়ে; কিন্তু কী করব? কাজের জন্য আমরা অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু আমাদের কাজ দেবে কে?’ দৈনিক আয় ও ভাতার টাকায় সংসারের খরচ মেটানো কঠিন বলে জানান তিনি। সুযোগ পেলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান এই দম্পতি। গাজীপুরের পূর্ব চান্দনায় বসবাসকারী খুলনার বস্তিহারা কলোনির বেলাল হোসেনের জীবনেও একই বাস্তবতা-কাজের সুযোগ না পেয়ে তাঁকেও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবন শুধু বঞ্চনার গল্প নয়; সুযোগ পেলে সক্ষমতা গড়ে তোলার উদাহরণও আছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের রাহাদুল ইসলাম ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর্থিক সংকট ও পারিবারিক বৈষম্যের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। টঙ্গী সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ডিগ্রিতে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়া ছেড়ে দেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজ ও সংগীত শেখার সুযোগ না পেয়ে নিজেই গান শেখেন। এখন দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করেন; টঙ্গী বাউল ক্লাব একাডেমিতেও পরিচিত মুখ তিনি।
রাহাদুল মনে করেন, সাদাছড়ি তাঁকে চলাচলে আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা দেয়। কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে কেবল প্রতীকী দিবস পালন করে বাস্তব পরিবর্তন আনা যাবে না। তাঁর ভাষায়, “রাষ্ট্র আমাদের সংবিধানে যে অধিকার দিয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩-তে যে অধিকার লেখা আছে, তার বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।” তাঁর চাওয়া, মানুষ যেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করুণার চোখে না দেখে, তাঁদের সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী নাজমুল হোসাইন ফারুকও মনে করেন, সাদাছড়ি দিবস পালন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নাজমুলের ভাষ্য, বছরের বাকি সময়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের বাস্তবতা খুব একটা বদলায় না। নিরাপদে চলাচল, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণে তাঁদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।
গাজীপুরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সোমা আক্তারের আহত হওয়ার ঘটনাও নিরাপদ চলাচলের প্রশ্নটি সামনে এনেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে রওশন সড়কের কাছে দুই বছর বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে তাঁর স্বামী মোজাম্মেল হোসেন সামনে হাঁটছিলেন; সাদাছড়ি হাতে পেছনে ছিলেন সোমা। এ সময় গাজীপুর পরিবহনের একটি বাস তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে দূরে পড়ে যান। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় তাঁর মাথার খুলিতে ফাটল ধরা পড়ে। রাতেই তাঁকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়; এক দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট আবদুর রশীদ জানান, শিববাড়ী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি ভিড় দেখতে পান এবং বাসচালককে মারধর করতে দেখেন। এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে শুনে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেন এবং চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রথমে ঘটনাটি জানেন না বলে জানান। পরে উপপরিদর্শক আশরাফুলের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তিনি বলেন, একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়েছিল; জনতা চালককে মারধর করে। এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে গাজীপুর পরিবহনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম রিপন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন; সমঝোতা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণে বক্তব্যগুলোর মধ্যে থাকা পার্থক্য স্পষ্ট করা জরুরি।
গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ অনুযায়ী, জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ২৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২৬ হাজার ৫৯৪, নারী ১৮ হাজার ৬৭০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১০ জন। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৫ হাজার ৫৭১ জন। শারীরিক প্রতিবন্ধী ২১ হাজার ৫১০, শ্রবণপ্রতিবন্ধী ১ হাজার ৬৭৩, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ৩ হাজার ৪৭২ এবং বাক্প্রতিবন্ধী ২ হাজার ৪০৫ জন। বাকি ব্যক্তিরা অন্যান্য শ্রেণির প্রতিবন্ধিতার অন্তর্ভুক্ত। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৩ জন নিয়মিত ভাতা এবং ১ হাজার ৬৭২ জন উপবৃত্তি পাচ্ছেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান প্রয়োজন। নিরাপদ চলাচল, পরিবহনে সহায়তা এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত ব্যক্তিদের মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। তাঁদের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
গাজীপুর জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৩৯৪টি সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮২টি হুইলচেয়ার, ৩৩টি ট্রাইসাইকেল, ৪২টি স্মার্ট সাদাছড়ি, সাতটি ফোল্ডিং ওয়াকার, সাতটি কর্নার চেয়ার, নয়টি অক্সিলারি ক্রাচ, নয়টি এলবো ক্রাচ, দুটি হিয়ারিং এইড এবং তিনটি টয়লেট চেয়ার রয়েছে। জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা কামরুজ্জাহান চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
তবে সাধারণ একজন প্রতিবন্ধী নাগরিক মাসিক ১,০০০ টাকা ভাতা পান। কিন্তু সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান পান মাসিক ৩,০০০ টাকা। একে কাঠামোগত বৈষম্য হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিবন্ধী অধিকার সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, সব প্রতিবন্ধী শিশুরই সমান চিকিৎসা, থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা এবং পরিচর্যার খরচ থাকে। তাই রাষ্ট্রীয় সহায়তা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ চলাচল এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। তাঁদের চাহিদা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ইন্টারন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যালায়েন্সের সাবেক প্রশিক্ষক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মতে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রাধিকার ও নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। নিয়োগে বৈষম্য এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা তৈরি করছে। পরিস্থিতি বদলাতে আইনের বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে কার্যকর তদারকি, দায়িত্ব পালনে অবহেলার জবাবদিহি এবং বৈষম্যমূলক বিধান সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
মুকলেসুর রহমানের মতো একজন শিক্ষিত মানুষ যখন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজের নিশ্চয়তা পান না, রাজুর মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ যখন নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ চান, আর সাজল-রাশিদার মতো শিক্ষিত দম্পতি যখন জীবিকার জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হন- তখন প্রশ্ন ওঠে, অধিকার ও সহায়তার উদ্যোগ তাঁদের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনছে?
সাদাছড়ি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলার পথ চিনতে সাহায্য করে; কিন্তু সেই পথ নিরাপদ করা, শিক্ষার পর কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। দিবসের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে সেই দায়িত্ব কতটা পালিত হচ্ছে, তার উত্তর খুঁজছেন মুকলেসুরের মতো হাজারো মানুষ।














