জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নাকচ
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পঠিত

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ২৭ জনের জামিন নাকচ করেছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
সোমবার শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত আদালতে আসামিদের জামিন আবেদন করেন। তিনি শুনানিতে বলেন, আসামিরা নির্দোষ। তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সেখানে বৈঠক করছিলেন। অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এ সময় তিনি আদালতকে পুলিশের অনুমতিপত্র দেখান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আসামিরা অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বৈঠক করছিলেন। তারা ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের জামিন দেওয়া হলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নাকচ করে দেন আদালত।
আসামিরা হলেন মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লার সাদেক (৪৩), নয়ন আলী (৩০), সাজিদুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৫২), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাসিদুল হক (৪৪) ও মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।
এর আগে রোববার আসামিদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫৪ ধারায় জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম।
আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং এতে সেখানে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ আরও দাবি করে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সেখানে আসার বিষয়ে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তারা কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
গত শনিবার সন্ধ্যায় জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ে থাকা ২৭৮ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। রোববার বাকি ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনার বিষয়ে জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পুলিশের অনুমতি নিয়েই সারাদেশ থেকে আসা নেতাদের অংশগ্রহণে প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। দলটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগ, সভা চলাকালে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালান। পরে পুলিশ তাদের বের করে দিয়ে জাসদের নেতাকর্মীদের আটক করে।
আরও বলা হয়, সভাস্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ও জাসদের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে।



















