ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ

বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে ক্ষুব্ধ পোশাক খাত: তিন শীর্ষ সংগঠন রুখে দাঁড়ালো

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পের ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশে তিনটি প্রধান টেক্সটাইল সংগঠন—বিটিএমএ, বিজিএমইএ, এবং বিকেএমইএ—মুখোমুখি হয়েছে। বিটিএমএ দাবি করছে যে, এই সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে দেশের স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং বিদেশি ক্রেতাদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দাবি করেছে যে, বন্ড সুবিধা দেশের পোশাক শিল্পের জন্য অপরিহার্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে সহায়ক। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কতটুকু আলোচনা ও বাস্তবতা রয়েছে, এবং এটি কি স্থানীয় শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে নাকি ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং পোশাক খাতের এই বিতর্কে দুটি প্রধান অংশের মধ্যে বড় একটি মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিটিএমএ, বিজিএমইএ, এবং বিকেএমইএ একে অপরকে বিভ্রান্তিকর দাবি করার অভিযোগ তুলেছে। বিটিএমএ বলছে, সরকার এই সিদ্ধান্তটি প্রস্তাব করার আগে স্থানীয় শিল্পের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আলোচনা করেনি। এর ফলস্বরূপ, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বিদেশি প্রতিযোগিতার কারণে হিমশিম খাচ্ছে। স্পিনিং মিলগুলো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলো ভর্তুকি দেওয়ার কারণে তাদের খরচের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছে না।

অন্যদিকে, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এটিকে পুরোপুরি ভুল দাবি করছে, তারা বলে যে, যেসব বৈঠক হয়েছে, সেখানে ট্যারিফ কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিপূর্ণ নয় এবং একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকার সুপারিশ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, বিদেশি ক্রেতাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য বন্ড সুবিধা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি যদি প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে।

বিকেএমইএ আরও জানায়, প্রতিবেশী দেশের ভর্তুকি নিয়ে তথ্য বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা বলছে, যদি সত্যিই প্রতিবেশী দেশগুলো অতিরিক্ত ভর্তুকি দিচ্ছে, তবে সরকারকে উচিত ছিল অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে এর মোকাবিলা করা। এছাড়া, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর স্থানীয় সুতা ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার দাবিকেও তারা ভুল দাবি বলে উড়িয়ে দেয়, কারণ এটি এখনো নিশ্চিত নয়।

এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি সরাসরি দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উপর প্রভাব ফেলবে, এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা স্থানীয় শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

 

ট্যাগস :

বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে ক্ষুব্ধ পোশাক খাত: তিন শীর্ষ সংগঠন রুখে দাঁড়ালো

আপডেট সময় : ০৫:০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পের ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশে তিনটি প্রধান টেক্সটাইল সংগঠন—বিটিএমএ, বিজিএমইএ, এবং বিকেএমইএ—মুখোমুখি হয়েছে। বিটিএমএ দাবি করছে যে, এই সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে দেশের স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং বিদেশি ক্রেতাদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দাবি করেছে যে, বন্ড সুবিধা দেশের পোশাক শিল্পের জন্য অপরিহার্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে সহায়ক। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কতটুকু আলোচনা ও বাস্তবতা রয়েছে, এবং এটি কি স্থানীয় শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে নাকি ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং পোশাক খাতের এই বিতর্কে দুটি প্রধান অংশের মধ্যে বড় একটি মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিটিএমএ, বিজিএমইএ, এবং বিকেএমইএ একে অপরকে বিভ্রান্তিকর দাবি করার অভিযোগ তুলেছে। বিটিএমএ বলছে, সরকার এই সিদ্ধান্তটি প্রস্তাব করার আগে স্থানীয় শিল্পের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আলোচনা করেনি। এর ফলস্বরূপ, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বিদেশি প্রতিযোগিতার কারণে হিমশিম খাচ্ছে। স্পিনিং মিলগুলো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলো ভর্তুকি দেওয়ার কারণে তাদের খরচের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছে না।

অন্যদিকে, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এটিকে পুরোপুরি ভুল দাবি করছে, তারা বলে যে, যেসব বৈঠক হয়েছে, সেখানে ট্যারিফ কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিপূর্ণ নয় এবং একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকার সুপারিশ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, বিদেশি ক্রেতাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য বন্ড সুবিধা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি যদি প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে।

বিকেএমইএ আরও জানায়, প্রতিবেশী দেশের ভর্তুকি নিয়ে তথ্য বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা বলছে, যদি সত্যিই প্রতিবেশী দেশগুলো অতিরিক্ত ভর্তুকি দিচ্ছে, তবে সরকারকে উচিত ছিল অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে এর মোকাবিলা করা। এছাড়া, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর স্থানীয় সুতা ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার দাবিকেও তারা ভুল দাবি বলে উড়িয়ে দেয়, কারণ এটি এখনো নিশ্চিত নয়।

এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি সরাসরি দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উপর প্রভাব ফেলবে, এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা স্থানীয় শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।