ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

আইসিএক্স ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার নয়, আধুনিকায়নের দাবি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ৫০৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের টেলিকম খাতে ‘আইসিএক্স’ (Interconnection Exchange) ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিএক্স অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, ভয়েস ট্রাফিকের জন্য কেন্দ্রীয় আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা হিসেবে আইসিএক্স গত প্রায় দেড় দশক ধরে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দেশীয় বিনিয়োগ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি)-এর  পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ভয়েস স্তরে সরলীকরণের নামে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং জাতীয় নিরাপত্তা, আয়কর রাজস্ব, দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ গ্রাহকের কল সেবার মান-তিনটি ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে অবৈধ ভিওআইপি, কল রেট বৃদ্ধি ও কল ড্রপের সমস্যা আইসিএক্স নয়, বরং মোবাইল অপারেটরদের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক কাঠামো ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে হচ্ছে। টেলিকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটস অফ বাংলাদেশ (টিআইওবি)-এর প্রেসিডেন্ট  ও  অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি) এর পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান (অব.)-এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এআইওবির জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান (অব.)এআইওবি-এর কোষাধ্যক্ষ ও জীবনধারা সলিউশন লি.এর গ্রপ সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খুরশিদ আলম (অব.), প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আহমেদ উর রহমান (রোমেল)। আরও উপস্থিত ছিলেন টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নেতারা আরও বলেন, এই খাতে অতি সাম্প্রতিক টেকনোলজির উন্নয়নের জন্য ১৩০ কোটি  বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা আগামী এক দশক সেবা দেওয়ার মতো সক্ষম। সাথে এই খাতে ইতো মধ্যেই প্রায় ৫০০ জনের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালে বিটিআরসির নির্দেশনায় আইপি টেকনোলজি উন্নয়ন ও এসএমএস ইন্টার কানেকশনর জন্য ১৩০ কোটি টাকার দেশীয় বিনিয়োগ হয়েছে। এটি তুলে দিলে কর্মসংস্থানের ওপর বড় আঘাত আসবে এবং ইতিবাচক বিনিয়োগ প্রবণতা থমকে যাবে বলে মনে করে এআইওবি। বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, টেলিকম খাতে যেকোনো সংস্কার বাস্তব পরিস্থিতি ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে হয়। আমাদের দাবি হলো বর্তমান আইসিএক্স- ভিত্তিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন এবং সুশৃঙ্খল করতে হলে তা করা হোক, তবে এটি বাতিল করে পুরো সেক্টরকে নৈরাজ্যে ঠেলে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।  সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৫০টির বেশি ভয়েস সেবাদাতা সংস্থা রয়েছে। যদি দ্বিপাক্ষিক সংযোগের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে বড় অপারেটরদের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে এবং ছোট অপারেটররা টিকতে পারবে না। তদুপরি, সরকারি রাজস্ব হারানো, আন্তর্জাতিক কলের নিরাপত্তা হুমকি ও অবৈধ ভিওআইপি ফের বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও কর্মসংস্থানবান্ধব সংস্কারই হওয়া উচিত। একটি টেকসই, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেলিকম ব্যবস্থা গঠনে আইসিএক্স অপরিহার্য।

ট্যাগস :

আইসিএক্স ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার নয়, আধুনিকায়নের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:২৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশ কন্ঠ প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের টেলিকম খাতে ‘আইসিএক্স’ (Interconnection Exchange) ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিএক্স অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, ভয়েস ট্রাফিকের জন্য কেন্দ্রীয় আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা হিসেবে আইসিএক্স গত প্রায় দেড় দশক ধরে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দেশীয় বিনিয়োগ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি)-এর  পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ভয়েস স্তরে সরলীকরণের নামে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং জাতীয় নিরাপত্তা, আয়কর রাজস্ব, দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ গ্রাহকের কল সেবার মান-তিনটি ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে অবৈধ ভিওআইপি, কল রেট বৃদ্ধি ও কল ড্রপের সমস্যা আইসিএক্স নয়, বরং মোবাইল অপারেটরদের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক কাঠামো ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে হচ্ছে। টেলিকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটস অফ বাংলাদেশ (টিআইওবি)-এর প্রেসিডেন্ট  ও  অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিএক্স অপারেটরস অফ বাংলাদেশ (এআইওবি) এর পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান (অব.)-এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এআইওবির জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান (অব.)এআইওবি-এর কোষাধ্যক্ষ ও জীবনধারা সলিউশন লি.এর গ্রপ সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খুরশিদ আলম (অব.), প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আহমেদ উর রহমান (রোমেল)। আরও উপস্থিত ছিলেন টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নেতারা আরও বলেন, এই খাতে অতি সাম্প্রতিক টেকনোলজির উন্নয়নের জন্য ১৩০ কোটি  বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা আগামী এক দশক সেবা দেওয়ার মতো সক্ষম। সাথে এই খাতে ইতো মধ্যেই প্রায় ৫০০ জনের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালে বিটিআরসির নির্দেশনায় আইপি টেকনোলজি উন্নয়ন ও এসএমএস ইন্টার কানেকশনর জন্য ১৩০ কোটি টাকার দেশীয় বিনিয়োগ হয়েছে। এটি তুলে দিলে কর্মসংস্থানের ওপর বড় আঘাত আসবে এবং ইতিবাচক বিনিয়োগ প্রবণতা থমকে যাবে বলে মনে করে এআইওবি। বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, টেলিকম খাতে যেকোনো সংস্কার বাস্তব পরিস্থিতি ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে হয়। আমাদের দাবি হলো বর্তমান আইসিএক্স- ভিত্তিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন এবং সুশৃঙ্খল করতে হলে তা করা হোক, তবে এটি বাতিল করে পুরো সেক্টরকে নৈরাজ্যে ঠেলে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।  সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৫০টির বেশি ভয়েস সেবাদাতা সংস্থা রয়েছে। যদি দ্বিপাক্ষিক সংযোগের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে বড় অপারেটরদের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে এবং ছোট অপারেটররা টিকতে পারবে না। তদুপরি, সরকারি রাজস্ব হারানো, আন্তর্জাতিক কলের নিরাপত্তা হুমকি ও অবৈধ ভিওআইপি ফের বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও কর্মসংস্থানবান্ধব সংস্কারই হওয়া উচিত। একটি টেকসই, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেলিকম ব্যবস্থা গঠনে আইসিএক্স অপরিহার্য।