ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নাকচ Logo এসএসসির খাতা মূল্যায়নে ‘দুর্বলতা’, শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo বাংলাদেশের বাজারে হাইফিউচার ব্রান্ডের ফ্লেক্সক্লিপ প্রিমিয়াম ক্লিপ ইয়ারবাডস Logo বাঁধ মেরামতের অর্থে ম্যুরাল নির্মাণের অভিযোগ পাউবোর প্রকৌশলী প্রবীরের বিরুদ্ধে Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭ Logo নতুন বুটে ইনজুরিতে পড়তে পারেন এমবাপ্পে, আগেই সতর্ক করেছিলেন ফিজিও Logo অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে: সাদিয়া আয়মান Logo চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ফেসবুক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী মিথ্যাচার চালাচ্ছে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূর সাড়ে-৯ ভরি স্বর্ণ আত্মসাত-২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদনের অভিযোগ

নতুন সরকার শপথের পরই যে বিষয়গুলোতে হাত দিতে হবে!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪ ১৮৭৪ বার পঠিত

ফারুখ খান, সম্পাদক-দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠ:

দেশী-বিদেশী নানামুখী বিরোধীতার পরও অনেকটা সফলভাবেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। গত ৭ই জানুয়ারীর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর আগেও দলটি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো। কিন্তু তৎকালীন অবস্থা আর এখনকার অবস্থার মধ্যে রাত-দিন পার্থক্য রয়েছে। কেননা সরকারকে শপথ নেয়ার পর পরই কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

১) দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই বিশ্ব রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের দামামার নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। যার ফলে দ্রব্যমূল্য সব দেশেই বাড়তে থাকে। যদিও ইদানীং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রব্যমূল্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রভাব খুবই কম। বরং চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ বিভিন্ন নিত্য পণ্যের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে করে সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে আছে দেশের খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ছিলো ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যা ২০২৩ সালে দাড়ায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশে। সুতরাং সাধারণ মানুষের অবস্থা কি তা সহজেই অনুমেয়। কাজেই নতুন সরকার শপথ নিয়ে প্রথমেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ভাঙ্গতে হবে বাজার নিয়ন্ত্রণের সকল সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটে যদি নিজের দলের কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

২) রিজার্ভ সংকট সমাধান: দিন যত যাচ্ছে দেশের রিজার্ভ ততটা তলানীতে গিয়ে ঠেকছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে যেখানে রিজার্ভ ছিলো ৩২.২২ বিলিয়ন ডলার। তা ঐ বছরের ডিসেম্বরে গিয়ে দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে আাইএমএফ এর হিসাবে রিজার্ভ ১৯.৫২ ডলার বলে জানানো হয়। রিজার্ভ সংকট কাটাতে দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান খেলাপী ঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আনার জন্য নতুন সরকারকে সম্ভব সবকিছু প্রথম দিকেই করতে হবে।

৩) চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ: গেল বছরের শেষ দিক হতে আজো পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো টাল-মাটাল অবস্থা। অক্টোবরের শেষদিকে বিএনপির মহাসমোবেশে গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে টানা ৬ সপ্তাহ অবরোধ ও হরতালে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচন কেন্দ্রীক এ ধরনের জ্বালাও-পোড়াও অনেকটা স্বাভাবিক। তবে নির্বাচন হয়ে গেলে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়। কাজেই বিশ্লেষকদের মন্তব্যকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা যায়, তাও সরকারের অগ্রাধিকার কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসাবে দেখতে হবে।

সবকিছু ছাপিয়ে নতুন বছরে নতুন সরকারেরে কাছে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চারটা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে। তারা এও বিশ্বাস করে নতুন সরকার এ কাজটি খুব ভালো করেই করতে সক্ষম হবে।

নতুন সরকার শপথের পরই যে বিষয়গুলোতে হাত দিতে হবে!

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪

ফারুখ খান, সম্পাদক-দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠ:

দেশী-বিদেশী নানামুখী বিরোধীতার পরও অনেকটা সফলভাবেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। গত ৭ই জানুয়ারীর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর আগেও দলটি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলো। কিন্তু তৎকালীন অবস্থা আর এখনকার অবস্থার মধ্যে রাত-দিন পার্থক্য রয়েছে। কেননা সরকারকে শপথ নেয়ার পর পরই কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

১) দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই বিশ্ব রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের দামামার নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। যার ফলে দ্রব্যমূল্য সব দেশেই বাড়তে থাকে। যদিও ইদানীং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রব্যমূল্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রভাব খুবই কম। বরং চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ বিভিন্ন নিত্য পণ্যের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে করে সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে আছে দেশের খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ছিলো ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যা ২০২৩ সালে দাড়ায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশে। সুতরাং সাধারণ মানুষের অবস্থা কি তা সহজেই অনুমেয়। কাজেই নতুন সরকার শপথ নিয়ে প্রথমেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ভাঙ্গতে হবে বাজার নিয়ন্ত্রণের সকল সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটে যদি নিজের দলের কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

২) রিজার্ভ সংকট সমাধান: দিন যত যাচ্ছে দেশের রিজার্ভ ততটা তলানীতে গিয়ে ঠেকছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে যেখানে রিজার্ভ ছিলো ৩২.২২ বিলিয়ন ডলার। তা ঐ বছরের ডিসেম্বরে গিয়ে দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে আাইএমএফ এর হিসাবে রিজার্ভ ১৯.৫২ ডলার বলে জানানো হয়। রিজার্ভ সংকট কাটাতে দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান খেলাপী ঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আনার জন্য নতুন সরকারকে সম্ভব সবকিছু প্রথম দিকেই করতে হবে।

৩) চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ: গেল বছরের শেষ দিক হতে আজো পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো টাল-মাটাল অবস্থা। অক্টোবরের শেষদিকে বিএনপির মহাসমোবেশে গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে টানা ৬ সপ্তাহ অবরোধ ও হরতালে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচন কেন্দ্রীক এ ধরনের জ্বালাও-পোড়াও অনেকটা স্বাভাবিক। তবে নির্বাচন হয়ে গেলে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়। কাজেই বিশ্লেষকদের মন্তব্যকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা যায়, তাও সরকারের অগ্রাধিকার কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসাবে দেখতে হবে।

সবকিছু ছাপিয়ে নতুন বছরে নতুন সরকারেরে কাছে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চারটা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে। তারা এও বিশ্বাস করে নতুন সরকার এ কাজটি খুব ভালো করেই করতে সক্ষম হবে।