ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

নওগাঁয় বাক্স পদ্ধতিতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০৫ বার পঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
খাদ্য শস্য ভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁর প্রায় সব এলাকায় এবছর সরিষার আবাদ করা হয়েছে । জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। আর এই শীতকালীন শস্য সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত জেলার মৌচাষীরা। শুধু নওগাঁ জেলার নই জেলার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বাক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হয় বলে জানিয়েছেন মৌচাষীরা। সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি এই মধু গুনে ও মানে অত্যন্ত ভালো হওয়ায এই মধুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন মৌচাষীরা। তবে এবছর মৌসুমের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ অধিক হবে বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার দুবলহাটি এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহের জন্য কাঠের বিশেষভাবে তৈরি বাক্স সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে। যার ওপরের অংশটা পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। প্রতিটি বক্সের ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটু করে রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি।

রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে তিন হাজারেরও বেশি পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বক্সে। এরপর সেই সব বাক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভো ভো শব্দ তুলে ঢু মারতে থাকে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে সেই বক্সে।

সাতক্ষীরা থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মুকুল জানান, নভেম্বরের শেষের দিকে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি ভর্তি বক্স রাখা হয় । মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সেই বক্সে জমা করে। এভাবে ৮ থেকে ১০ দিন পর আমরা বক্স খুলে সেখানে থেকে মধু সংগ্রহ করি। আমি এখানে ম্যালিফেরা জাতের মৌমাছির ১৫০ টি বক্স রেখেছি।বক্স গুলোথেকে প্রতিবার মধু সংগ্রহের সময় প্রায় এক থেকে দেড় কেজি মধু পাই। এবং এই মধুগুলো প্রতি কেজি ৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি। এক মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে মধু সংগ্রহ করা হয়। আর এই সময়ের মধ্য প্রতিটি বক্স থেকে ৪ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে। এই পক্রিয়ায় মধু সংগ্রহ খাঁটি ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই এসে নিজে দেখে শুনে মধু কিনতে পারছে এতে ক্রেতারাও অনেক খুশি আমরাও তা আনন্দের সাথে বিক্রয় করছি। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষা ফুলের ক্ষতি হয়েছে যার ফলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ -পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে বাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের মধুতে কোনো প্রকার ভেজাল থাকে না। একেবারে খাঁটি। আর এভাবে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই যার ফলে বক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার মানুষদের।

নওগাঁয় বাক্স পদ্ধতিতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

নওগাঁ প্রতিনিধি:
খাদ্য শস্য ভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁর প্রায় সব এলাকায় এবছর সরিষার আবাদ করা হয়েছে । জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। আর এই শীতকালীন শস্য সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত জেলার মৌচাষীরা। শুধু নওগাঁ জেলার নই জেলার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বাক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হয় বলে জানিয়েছেন মৌচাষীরা। সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি এই মধু গুনে ও মানে অত্যন্ত ভালো হওয়ায এই মধুর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন মৌচাষীরা। তবে এবছর মৌসুমের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ অধিক হবে বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার দুবলহাটি এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহের জন্য কাঠের বিশেষভাবে তৈরি বাক্স সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে। যার ওপরের অংশটা পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। প্রতিটি বক্সের ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটু করে রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি।

রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে তিন হাজারেরও বেশি পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বক্সে। এরপর সেই সব বাক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভো ভো শব্দ তুলে ঢু মারতে থাকে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে সেই বক্সে।

সাতক্ষীরা থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মুকুল জানান, নভেম্বরের শেষের দিকে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি ভর্তি বক্স রাখা হয় । মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সেই বক্সে জমা করে। এভাবে ৮ থেকে ১০ দিন পর আমরা বক্স খুলে সেখানে থেকে মধু সংগ্রহ করি। আমি এখানে ম্যালিফেরা জাতের মৌমাছির ১৫০ টি বক্স রেখেছি।বক্স গুলোথেকে প্রতিবার মধু সংগ্রহের সময় প্রায় এক থেকে দেড় কেজি মধু পাই। এবং এই মধুগুলো প্রতি কেজি ৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি। এক মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে মধু সংগ্রহ করা হয়। আর এই সময়ের মধ্য প্রতিটি বক্স থেকে ৪ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ মন মধু সংগ্রহ করতে পারবো বলে আশা করছি যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে। এই পক্রিয়ায় মধু সংগ্রহ খাঁটি ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই এসে নিজে দেখে শুনে মধু কিনতে পারছে এতে ক্রেতারাও অনেক খুশি আমরাও তা আনন্দের সাথে বিক্রয় করছি। তবে এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষা ফুলের ক্ষতি হয়েছে যার ফলে মধু সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ -পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর জেলায় প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আর এই সরিষা ফুল থেকে বাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষীরা। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের মধুতে কোনো প্রকার ভেজাল থাকে না। একেবারে খাঁটি। আর এভাবে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই যার ফলে বক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার মানুষদের।