বাড়ছে আমদানি: সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল
- আপডেট সময় : ১২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ০২ মার্চ ২০২৬ ।।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দ্রুত দেশে আনার জন্য ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই তেল দেশে এলে বর্তমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে। বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে বহন করা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকা রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে, তবে ইরানের বিশেষ অনুমতি না পাওয়ায় সেটি এখনো বাংলাদেশে রওনা হতে পারেনি। ইরান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও এই জাহাজটি সেই তালিকায় নেই। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামের পথে রওনা দেবে। হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কেনা তেল সৌদি আরবের লোহিত সাগরসংলগ্ন ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় পরিবহনে কোনো ঝুঁকি নেই। আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারে সরবরাহ করা হবে। পরিশোধনের পর এই তেল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন পাওয়া যাবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলমের মতে, এই সরবরাহ সংকট কমাতে সহায়ক হলেও বাড়তি চাহিদা পূরণে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়।














