ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি Logo রাজাপুরের উত্তর উত্তমপুর গ্রামে ২ কিলোমিটার রাস্তা মরণফাঁদ, বর্ষায় চরম ভোগান্তিতে শত শত শিক্ষার্থী Logo মাদকে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি Logo দেশের বাজারে অনারের আল্ট্রা-স্লিম ফোল্ডেবল ‘ম্যাজিক ভি৬’ Logo সুস্থ সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গঠনে তরুণ সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য Logo একটি হুইল চেয়ারই বদলে দিতে পারে প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের জীবন Logo ‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় পড়ে থাকবে লাশ’: হিন্দু পল্লীতে আতঙ্ক Logo ফরিদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা জন্মের প্রথম ঘণ্টায় শালদুধ, প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর আহ্বান Logo নগরকান্দায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে তদন্তে পুলিশ Logo বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

প্রকাশনা শিল্পে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্টুডেন্ট ওয়েজ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৩৯২ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

প্রকাশনার জগতটা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে একটু কঠিন জায়গা। এ কারনেই নতুন প্রজন্মের কেউ এই ভুবনে পা রখতে চান না। কিন্তু একটা সময় ছিলো প্রকাশনা জগতের সাথে দেশের মেধাবী মানুষেরা জড়িত ছিলো। কিন্তু দিনে দিনে এই অবস্থার যথেষ্ঠ পরিবর্তন হয়েছে।আর এই পরিবর্তনের সময়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান স্টুডেন্ট ওয়েজ। ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি জাতি গঠনে এবং সৃজনশীল সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। মো. হাবিবুল্লাহ’র হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই স্টুডেন্ট ওয়েজ সাহিত্য, শিক্ষার প্রসার এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নসহ সমাজে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বইয়ের জগতে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়। তার পরবর্তী সময়ে স্টুডেন্ট ওয়েজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার সন্তান মো. লিয়াকতউল্লাহ, যিনি প্রকাশনা শিল্পে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পান তৃতীয় প্রজন্মের প্রকাশক মো. মাশফিকউল্লাহ তন্ময়। যিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাশফিকউল্লাহ বলেন, ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ শুরু হয়েছিল আমার দাদার হাত ধরে সেই ১৯৫০ সালে। আমি থার্ড জেনারেশন হিসেবে ব্যবসাটি দেখছি। ২০২৫-এ আমাদের প্রতিষ্ঠানটির ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘযাত্রাপথে আমরা বহু গুণী লেখকের সঙ্গে কাজ করেছি। সৈয়দ মুজতবা আলী, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ আবদুল হাই, আনিসুজ্জামান, শওকত ওসমান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, আহমদ ছফা, কবি জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেক কিংবদন্তি লেখক জড়িয়ে আছেন আমাদের প্রকাশনীর সঙ্গে। উল্লেখযোগ্য, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার লেখা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’—এর প্রকাশক আমরা। এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত পাঁচ উপন্যাস, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘অচিনপুর’, ‘সৌরভ’, ‘বাসর’, ‘আনন্দ বেদনার কাব্য’ এবং আহমেদ ছফার ‘ওঙ্কার’ আমাদের প্রকাশনী থেকে এসেছে। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা এখনও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, পাঠকদের ভালো বই কম দামে উপহার দেয়া। এবারের বইমেলায় জুলাই নিয়ে আমাদের নতুন তিনটি বই এসেছে, ইংরেজি দুটি বই আছে, জুলাই নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে যত নিউজ হয়েছে সব একসাথে কম্বাইন্ড করা হয়েছে। এছাড়া কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ওপরও দুটি বই আছে। আইটি নিয়েও এবার বেশ কিছু বই আসবে আমাদের। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের মাইক্রোসফট এমডির একটি বই আসছে। তারপর সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে অনেক সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে। সেক্ষেত্রে এবারও ইয়াং জেনারেশনকে ধারণা দেয়ার জন্য সেমিকন্ডাক্টর ওপর একটি বই আসছে। আর গল্প, উপন্যাস, কবিতা এগুলো তো আছেই। এর মধ্যে সাংবাদিক, কলামিস্ট ও উপন্যাসিক ফারুক খানের ‘আনন্দ অশ্রু’ নামে একটি উপন্যাস আমাদের এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ’যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ সব সময় মেধাকে প্রাধান্য দেয়। আমাদের কাছে নতুন পুরনো বলতে কিছু নেই। নতুনদের জন্যও আমাদের প্রকাশনী আছে ‘বর্ষাদুপুর’। যেখানে আমরা উদীয়মান লেখকদের নিয়ে কাজ করছি। অনেক ক্ষেত্রেই নবীনদের অভিযোগ থাকে তারা প্রকাশকের পর্যাপ্ত সাপোর্ট পায় না। তাই তাদের সাপোর্ট দেয়ার জন্যই সব সময় চেষ্টা করি। আমাদের একটি সম্পাদনা টিম আছে। কেউ পান্ডুলিপি দিলে চাইলে আমরা দেখি। ছাপার মতো হলে অবশ্যই আমরা নিজ উদ্যোগেই ছাপার চেষ্টা করি। তবে ইয়াং লেখকদের একটি সমস্যা হচ্ছে, আজকে লিখলো কালকেই বই! তো তাদের জন্য বলি যে, প্রচুর লিখতে হবে। এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আছে, পত্রিকায় লিখলে সবচেয়ে ভালো। সবারই সাহিত্য চর্চা করে তারপর বইয়ের প্ল্যান করা উচিত। তাই যারা নতুন লিখছেন, তাদেরকে এইটুকুই বলব, প্রচুর পড়তে হবে, পত্র-পত্রিকায় লিখতে হবে, তারপর বই প্রকাশ করতে হবে।

ট্যাগস :

প্রকাশনা শিল্পে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্টুডেন্ট ওয়েজ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

প্রকাশনার জগতটা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে একটু কঠিন জায়গা। এ কারনেই নতুন প্রজন্মের কেউ এই ভুবনে পা রখতে চান না। কিন্তু একটা সময় ছিলো প্রকাশনা জগতের সাথে দেশের মেধাবী মানুষেরা জড়িত ছিলো। কিন্তু দিনে দিনে এই অবস্থার যথেষ্ঠ পরিবর্তন হয়েছে।আর এই পরিবর্তনের সময়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান স্টুডেন্ট ওয়েজ। ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি জাতি গঠনে এবং সৃজনশীল সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। মো. হাবিবুল্লাহ’র হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই স্টুডেন্ট ওয়েজ সাহিত্য, শিক্ষার প্রসার এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নসহ সমাজে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বইয়ের জগতে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়। তার পরবর্তী সময়ে স্টুডেন্ট ওয়েজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার সন্তান মো. লিয়াকতউল্লাহ, যিনি প্রকাশনা শিল্পে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পান তৃতীয় প্রজন্মের প্রকাশক মো. মাশফিকউল্লাহ তন্ময়। যিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাশফিকউল্লাহ বলেন, ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ শুরু হয়েছিল আমার দাদার হাত ধরে সেই ১৯৫০ সালে। আমি থার্ড জেনারেশন হিসেবে ব্যবসাটি দেখছি। ২০২৫-এ আমাদের প্রতিষ্ঠানটির ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘযাত্রাপথে আমরা বহু গুণী লেখকের সঙ্গে কাজ করেছি। সৈয়দ মুজতবা আলী, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ আবদুল হাই, আনিসুজ্জামান, শওকত ওসমান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, আহমদ ছফা, কবি জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেক কিংবদন্তি লেখক জড়িয়ে আছেন আমাদের প্রকাশনীর সঙ্গে। উল্লেখযোগ্য, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার লেখা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’—এর প্রকাশক আমরা। এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত পাঁচ উপন্যাস, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘অচিনপুর’, ‘সৌরভ’, ‘বাসর’, ‘আনন্দ বেদনার কাব্য’ এবং আহমেদ ছফার ‘ওঙ্কার’ আমাদের প্রকাশনী থেকে এসেছে। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা এখনও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, পাঠকদের ভালো বই কম দামে উপহার দেয়া। এবারের বইমেলায় জুলাই নিয়ে আমাদের নতুন তিনটি বই এসেছে, ইংরেজি দুটি বই আছে, জুলাই নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে যত নিউজ হয়েছে সব একসাথে কম্বাইন্ড করা হয়েছে। এছাড়া কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ওপরও দুটি বই আছে। আইটি নিয়েও এবার বেশ কিছু বই আসবে আমাদের। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের মাইক্রোসফট এমডির একটি বই আসছে। তারপর সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে অনেক সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে। সেক্ষেত্রে এবারও ইয়াং জেনারেশনকে ধারণা দেয়ার জন্য সেমিকন্ডাক্টর ওপর একটি বই আসছে। আর গল্প, উপন্যাস, কবিতা এগুলো তো আছেই। এর মধ্যে সাংবাদিক, কলামিস্ট ও উপন্যাসিক ফারুক খানের ‘আনন্দ অশ্রু’ নামে একটি উপন্যাস আমাদের এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ’যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ সব সময় মেধাকে প্রাধান্য দেয়। আমাদের কাছে নতুন পুরনো বলতে কিছু নেই। নতুনদের জন্যও আমাদের প্রকাশনী আছে ‘বর্ষাদুপুর’। যেখানে আমরা উদীয়মান লেখকদের নিয়ে কাজ করছি। অনেক ক্ষেত্রেই নবীনদের অভিযোগ থাকে তারা প্রকাশকের পর্যাপ্ত সাপোর্ট পায় না। তাই তাদের সাপোর্ট দেয়ার জন্যই সব সময় চেষ্টা করি। আমাদের একটি সম্পাদনা টিম আছে। কেউ পান্ডুলিপি দিলে চাইলে আমরা দেখি। ছাপার মতো হলে অবশ্যই আমরা নিজ উদ্যোগেই ছাপার চেষ্টা করি। তবে ইয়াং লেখকদের একটি সমস্যা হচ্ছে, আজকে লিখলো কালকেই বই! তো তাদের জন্য বলি যে, প্রচুর লিখতে হবে। এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আছে, পত্রিকায় লিখলে সবচেয়ে ভালো। সবারই সাহিত্য চর্চা করে তারপর বইয়ের প্ল্যান করা উচিত। তাই যারা নতুন লিখছেন, তাদেরকে এইটুকুই বলব, প্রচুর পড়তে হবে, পত্র-পত্রিকায় লিখতে হবে, তারপর বই প্রকাশ করতে হবে।