সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ‘জিএইউ ধান-৪’: স্বল্পমেয়াদে উচ্চ ফলনে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শনিবার ।। ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ।।
গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকদের দীর্ঘ এক দশকের প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’। এ জাতটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক ও প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ জাতটি উদ্ভাবিত হয়। নতুন এ জাত যুক্ত হওয়ায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫টিতে। গবেষকরা জানান, দেশের আউশ মৌসুমে সাধারণত ফলন তুলনামূলক কম হলেও ‘জিএইউ ধান-৪’ সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। স্বল্প সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এ জাতের ধান বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া কম পানির প্রয়োজন হওয়ায় এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজেই চাষযোগ্য। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ধানটি সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের শক্তি সরবরাহ ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। দানাগুলো লম্বা ও চিকন হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২২ সালে আঞ্চলিক অভিযোজন পরীক্ষা, ২০২৩ সালে উপযোগিতা যাচাই এবং ২০২৪ সালে দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। সব ধাপেই আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ার পরই জাতটি অনুমোদন পায়। এ বিষয়ে গবেষক প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের জন্য স্বল্প সময়ে বেশি ফলনশীল ও বাজারযোগ্য একটি আউশ ধানের জাত উদ্ভাবনই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ‘জিএইউ ধান-৪’ সেই লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করছি।”
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ উদ্ভাবন গবেষকদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের ফল। নতুন এ জাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জলবায়ু সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল এই নতুন জাতটি কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



















