ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রথম দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে নেপাল Logo ফ্রান্সের রাজপথ কাঁপাচ্ছে ক্যাপ্টেন আমেরিকা-স্পাইডারম্যানরা Logo ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে লিটনকে না পাওয়ার শঙ্কা Logo এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক হলেন মাহমুদা মিতু Logo বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, প্রশাসন নিয়ে সমালোচনায় অস্বস্তিতে সরকার Logo বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন: জামায়াতের আমির Logo প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি ও সতর্কীকরণ নোটিশ দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠের নাম ও পরিচয় ব্যবহার নিয়ে সতর্কীকরণ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপির ভাতিজা পরিচয়ে দাপট, সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি Logo আপনি আওয়ামীগের চোর, সরাইল থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা Logo মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের সুস্থতা কামনায় পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, প্রশাসন নিয়ে সমালোচনায় অস্বস্তিতে সরকার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পঠিত

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক বক্তব্য ও পারস্পরিক বিরোধের ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে প্রটোকলবিরোধী আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরোধের ঘটনা প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।অন্যদিকে প্রশাসনের দুর্নীতি, ঘুষ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ফাইল আটকে রাখা এবং দলীয়করণ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যেও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের আমলের অনিয়ম ও দলীয় আনুগত্যের প্রভাব থাকার অভিযোগ তুলেছেন। আবার প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিবিদদেরও দায়ী করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন মহলের নেতিবাচক বক্তব্যের অনেকগুলোরই সত্যতা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন তিনি।কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীর আচরণ বিতর্কের জন্ম দেয়। গত ২০ অক্টোবর রাতে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। সফর শেষে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের পর তাকে জড়িয়ে ধরার মতো ভঙ্গি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে প্রটোকলবিরোধী আচরণের অভিযোগ ওঠে।এর কয়েক দিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারের একটি বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি একটি দুর্গামন্দিরে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের বক্তব্যের সময় ইউএনওকে হাততালি দিতে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ইউএনও বলেন, ‘আমি এখন বিএনপির নেতা’। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থনসূচক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর বিরোধও আলোচনায় এসেছে। ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে আরিফুর রহমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ইউএনওকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের কথা লেখেন। পরে পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়।সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউএনওর মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে তাদের মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়া এসিল্যান্ডকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এমন বিরোধের ঘটনায় প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।প্রশাসন নিয়ে সমালোচনায় শীর্ষ পর্যায়মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রশাসনের দুর্নীতি, ঘুষ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও জনসেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলায় এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের…অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’গত ৩০ জুলাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনের পুরোনো অনিয়ম ও কাজ আটকে রাখার সংস্কৃতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।তথ্য ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগে যারা ঘুষ খেতেন, তারা এখনো ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছেন। একইভাবে আগে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিতেন, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছেন। লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছেন। ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘এই কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপে বলছি এজন্য, আমার বয়স অনেক। আমি তো সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা আমি দেখছি না আমাদের মধ্যে।’গত ৭ অক্টোবর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘শারদ মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় কাজ করতে হবে। তার বক্তব্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।গত ১১ অক্টোবর রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ক্ষোভপ্রকাশ করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হলে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি সংসদ সদস্যদের মূল্যায়ন না করে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আমাকে বাধ্য করবেন না থানা ঘেরাওয়ের জন্য, আমাকে বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্র লোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।’তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?’গত ১০ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনৈতিকতার প্রভাব থাকার অভিযোগ তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনৈতিকতার বৈশিষ্ট্য এখনো প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। প্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিতর্কিত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারকে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।রিজভী আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা ব্যক্তিরা সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। প্রশাসন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সচল রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। – জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রশাসন নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্যের অনেকগুলোরই সত্যতা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রীর মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তার দাবি, প্রশাসন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সচল রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন নিয়ে অস্বস্তির প্রশ্নই নেই। প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হতে পারে।’‘সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা’স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি না। কারণ, এই সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা। সব সরকারের আমলেই দুর্নীতিবাজেরা দরকষাকষি করে, তদবির করে। আর রাজনীতিবিদেরা তাদের কাছে গলে যান। – সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদারসাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য আসা এবং কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তির যুক্তি থাকতে পারে। তবে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থার জন্য রাজনীতিবিদদেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।স্পিকারের বক্তব্যের বিষয়ে দ্বিমত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি না। কারণ, এই সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা। সব সরকারের আমলেই দুর্নীতিবাজেরা দরকষাকষি করে, তদবির করে। আর রাজনীতিবিদেরা তাদের কাছে গলে যান।’তার মতে, জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায় পাঠায় দক্ষ ও যোগ্য লোক বেছে নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য। সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তার দায়ও সরকারকে নিতে হবে।আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘আপনি যদি ভালো লোক বের করতেই না পারেন, তাহলে ক্ষমতায় থাকেন কেন? এখনো বহু অসৎ লোক আছে, বহু সৎ লোকও আছে। তাদের খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব।’প্রশাসনে আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং তাদের একটি অংশের দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে আগের সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা সব কর্মকর্তাই দলীয় ছিলেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়।তিনি বলেন, ‘সেখানে কিছু পেশাদার কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে কারা পেশাদার, আর কারা একেবারে দলবাজি করেছেন। যারা পেশাদার, তাদের কাজে লাগাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দিতে হবে। যারা স্পষ্টভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের আলাদা করতে হবে।’প্রশাসনের সমালোচনা করে দেওয়া সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিষয়ে আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় এনেছে। এখন আপনি অভিভাবক। আপনি আমাদের ভালোভাবে চালাবেন। আপনি যদি কেবল কান্নাকাটি করেন, তাহলে তো আপনার অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়।’গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে যোগ্যতা যাচাইয়ের তাগিদসরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ছয়-সাত মাস পরও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ঘাটতি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজটি কঠিন হলেও সরকারকে দৃঢ় হতে হবে। তদবির ও নানা ধরনের চাপের কারণে যোগ্য কর্মকর্তা বাছাইয়ে সমস্যা হতে পারে। তবে এসব চাপ উপেক্ষা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।একটি ব্যাচে ৫০০ কর্মকর্তা থাকলে তাদের মধ্যে যোগ্যতার বিচারে অনেক পেছনে থাকা কাউকে তদবিরের মাধ্যমে ঢাকার জেলা প্রশাসক বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবার যোগ্যতার তালিকায় প্রথম, পঞ্চম বা দশম স্থানে থাকা কোনো কর্মকর্তা দলীয় সংশ্লিষ্টতা বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলে শুধু আগের সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে বাদ দেওয়াও ঠিক হবে না।সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই করা কঠিন কাজ। তবে এই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব সরকারেরই।

ট্যাগস :

বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, প্রশাসন নিয়ে সমালোচনায় অস্বস্তিতে সরকার

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক বক্তব্য ও পারস্পরিক বিরোধের ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে প্রটোকলবিরোধী আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরোধের ঘটনা প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।অন্যদিকে প্রশাসনের দুর্নীতি, ঘুষ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ফাইল আটকে রাখা এবং দলীয়করণ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যেও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের আমলের অনিয়ম ও দলীয় আনুগত্যের প্রভাব থাকার অভিযোগ তুলেছেন। আবার প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিবিদদেরও দায়ী করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন মহলের নেতিবাচক বক্তব্যের অনেকগুলোরই সত্যতা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন তিনি।কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীর আচরণ বিতর্কের জন্ম দেয়। গত ২০ অক্টোবর রাতে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। সফর শেষে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের পর তাকে জড়িয়ে ধরার মতো ভঙ্গি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে প্রটোকলবিরোধী আচরণের অভিযোগ ওঠে।এর কয়েক দিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারের একটি বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি একটি দুর্গামন্দিরে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের বক্তব্যের সময় ইউএনওকে হাততালি দিতে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ইউএনও বলেন, ‘আমি এখন বিএনপির নেতা’। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থনসূচক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর বিরোধও আলোচনায় এসেছে। ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে আরিফুর রহমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ইউএনওকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের কথা লেখেন। পরে পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়।সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউএনওর মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে তাদের মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়া এসিল্যান্ডকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এমন বিরোধের ঘটনায় প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।প্রশাসন নিয়ে সমালোচনায় শীর্ষ পর্যায়মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রশাসনের দুর্নীতি, ঘুষ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও জনসেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলায় এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের…অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’গত ৩০ জুলাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (বর্তমানে রাষ্ট্রপতি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনের পুরোনো অনিয়ম ও কাজ আটকে রাখার সংস্কৃতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।তথ্য ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগে যারা ঘুষ খেতেন, তারা এখনো ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছেন। একইভাবে আগে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিতেন, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছেন। লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছেন। ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘এই কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপে বলছি এজন্য, আমার বয়স অনেক। আমি তো সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা আমি দেখছি না আমাদের মধ্যে।’গত ৭ অক্টোবর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘শারদ মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় কাজ করতে হবে। তার বক্তব্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।গত ১১ অক্টোবর রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ক্ষোভপ্রকাশ করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হলে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি সংসদ সদস্যদের মূল্যায়ন না করে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আমাকে বাধ্য করবেন না থানা ঘেরাওয়ের জন্য, আমাকে বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্র লোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।’তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?’গত ১০ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনৈতিকতার প্রভাব থাকার অভিযোগ তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনৈতিকতার বৈশিষ্ট্য এখনো প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। প্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিতর্কিত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারকে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।রিজভী আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা ব্যক্তিরা সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। প্রশাসন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সচল রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। – জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রশাসন নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্যের অনেকগুলোরই সত্যতা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রীর মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো প্রশাসনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তার দাবি, প্রশাসন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সচল রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন নিয়ে অস্বস্তির প্রশ্নই নেই। প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হতে পারে।’‘সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা’স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি না। কারণ, এই সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা। সব সরকারের আমলেই দুর্নীতিবাজেরা দরকষাকষি করে, তদবির করে। আর রাজনীতিবিদেরা তাদের কাছে গলে যান। – সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদারসাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য আসা এবং কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তির যুক্তি থাকতে পারে। তবে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থার জন্য রাজনীতিবিদদেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।স্পিকারের বক্তব্যের বিষয়ে দ্বিমত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি না। কারণ, এই সরকারি কর্মচারীদের এই দেশে নষ্ট করেছে রাজনীতিবিদরা। সব সরকারের আমলেই দুর্নীতিবাজেরা দরকষাকষি করে, তদবির করে। আর রাজনীতিবিদেরা তাদের কাছে গলে যান।’তার মতে, জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায় পাঠায় দক্ষ ও যোগ্য লোক বেছে নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য। সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তার দায়ও সরকারকে নিতে হবে।আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘আপনি যদি ভালো লোক বের করতেই না পারেন, তাহলে ক্ষমতায় থাকেন কেন? এখনো বহু অসৎ লোক আছে, বহু সৎ লোকও আছে। তাদের খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব।’প্রশাসনে আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং তাদের একটি অংশের দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে আগের সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা সব কর্মকর্তাই দলীয় ছিলেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়।তিনি বলেন, ‘সেখানে কিছু পেশাদার কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে কারা পেশাদার, আর কারা একেবারে দলবাজি করেছেন। যারা পেশাদার, তাদের কাজে লাগাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দিতে হবে। যারা স্পষ্টভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের আলাদা করতে হবে।’প্রশাসনের সমালোচনা করে দেওয়া সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিষয়ে আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় এনেছে। এখন আপনি অভিভাবক। আপনি আমাদের ভালোভাবে চালাবেন। আপনি যদি কেবল কান্নাকাটি করেন, তাহলে তো আপনার অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়।’গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে যোগ্যতা যাচাইয়ের তাগিদসরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ছয়-সাত মাস পরও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ঘাটতি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজটি কঠিন হলেও সরকারকে দৃঢ় হতে হবে। তদবির ও নানা ধরনের চাপের কারণে যোগ্য কর্মকর্তা বাছাইয়ে সমস্যা হতে পারে। তবে এসব চাপ উপেক্ষা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।একটি ব্যাচে ৫০০ কর্মকর্তা থাকলে তাদের মধ্যে যোগ্যতার বিচারে অনেক পেছনে থাকা কাউকে তদবিরের মাধ্যমে ঢাকার জেলা প্রশাসক বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবার যোগ্যতার তালিকায় প্রথম, পঞ্চম বা দশম স্থানে থাকা কোনো কর্মকর্তা দলীয় সংশ্লিষ্টতা বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলে শুধু আগের সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে বাদ দেওয়াও ঠিক হবে না।সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই করা কঠিন কাজ। তবে এই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব সরকারেরই।