আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পঠিত

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন।
একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের দুষ্টু লোকজন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর সেটিকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে। বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশই নয়, বহির্বিশ্বেও দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অথচ তারা অন্যদের নসিহত করে বেড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ফেনীর মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল একাত্তরের রূপে আবারও ফিরে গেছে। মা-বোনদের ইজ্জত হরণ আর হত্যায় মেতে উঠেছে। এসময় বিএনপি নেতা-কর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এদের মুখোশ উন্মোচনের। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। ফলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে অধিকার বঞ্চিত করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সে অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এক লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন বাড়বে আশা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এতে করে শস্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জকারিয়া তাহের সুমন বক্তব্য রাখেন। এর আগে দিনব্যাপী সফরের শুরুতে ফেনীর পরশুরামে পৌঁছেই মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বহু প্রত্যাশিত মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর সোয়া ২টার দিকে সড়কপথে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় পৌঁছেই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরশুরামের অনুষ্ঠান শেষে ফুলগাজী যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিরতির পর যোগ দেবেন সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠান। সেখান থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান। কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় মোট পাঁচ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক হাজার ১২ জন কৃষকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ফেনী জেলায় মোট ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোনীতদের মধ্য থেকে ছয়জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, দুজন সেবায়েত এবং দুজন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।











