নিজস্ব প্রতিনিধি:
শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার প্রধান আসামি হিসাবে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হয়েছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বলেন, ‘শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আদালত তলব করেছিল, তাই আমি উপস্থিত হয়েছি।’
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে ড. ইউনূসের আইনজীবী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অভিযোগ ও আদালতে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের বর্ণনা দেন। সাংবাদিকরা ইউনূসের সঙ্গে কথা বলার জন্য চাপ দিলে আইনজীবী মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ইউনূস বলেন, ‘এটা (আদালতের বিষয়) লিগ্যাল মেটার। লিগ্যাল মেটারটা কী- সেই তিনি (ইউনূসের আইনজীবী) বুঝিয়ে দেবেন। তাহলেই আপনারা বুঝতে পারবেন।’
এরপর সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকলেও সেসব প্রশ্নের উত্তর দেননি ইউনূস। এর মধ্যে এই মামলা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলেও এ বিষয়ে নীরব থাকেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. ইউনূসকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়।
এদিকে শ্রমিক ঠকানোর মামলায় বিচার চলছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। মামলাটি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। এর মধ্যেই অর্থপাচার ও আত্মসাৎ মামলায় প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসকে।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে ড. ইউনূসকে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। এতে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসানসহ পাঁচ পরিচালকও। মামলায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ পাচার ও আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।