প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৪:২২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ৭:৪২ পি.এম
র্যাবের যৌথ অভিযানে কসবায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামক চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় চালক হোসেন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ আবুল বাশার (৪৪) এবং কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার সংরাইশ এলাকার মৃত রফিক মিয়ার মেয়ে নাজমুন নাহার লাভলী (২৮)।
র্যাব জানায়, নিহত হোসেন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চান্দলা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন। গত ২৫ মে ২০২৬ সকালে তিনি সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার সন্ধান না পেয়ে কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এর তিন দিন পর, ২৮ মে বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কসবা থানাধীন টি.আলী মোড় সংলগ্ন একটি পুকুরে একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হোসেন মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কসবা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সিএনজি অটোরিকশা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হোসেন মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার পর থেকেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার যৌথ আভিযানিক দল রোববার (২৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১ টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানাধীন বাগুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে। একই রাতে আনুমানিক ১ টা ৫০ মিনিটে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাধীন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুন নাহার লাভলীকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ও মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামক চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি চালককে অচেতন করে হত্যা করেন এবং পরে তার সিএনজি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেন।
র্যাব আরও জানায়, এ মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ আগস্ট একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ দুইজনকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে কসবা থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-০৩, তারিখ ২ জুন ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/৩৯৪/৩৪ ধারায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরে গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Copyright © 2026 বাংলাদেশ কন্ঠ. All rights reserved.