স্টাফ রিপোর্টার
রেশন কার্ড বিতরণের নামে প্রায় ৫ হাজার গরীব-দুঃখী মানুষের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে এক বিএনপি নেতা। রাজধানীর মিরপুরে মধ্যপাইকপাড়া ও কল্যাণপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। সারাবছর ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য রেশন বিতরণ করা হবে বলে কার্ড করার নামে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এখন ন্যায্যমূল্যতো দূরে থাক রেশন দেয়ার কার্যক্রমই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অভিনব এই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আফজালের বিরুদ্ধে।, গরীব-দুঃখী মানুষ রেশন চাইতে গেলে সে উল্টো পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত তিন মাস ধরে মিরপুর মধ্যপাইকপাড়া, দক্ষিণ পাইকপাড়া ও কল্যাণপুর এলাকার নিম্ন আয়ের এবং গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে বাজারের চেয়ে কম দামে চাল, ডাল, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি আইটেম বিতরণের জন্য রেশনকার্ড করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে এই রেশনকার্ডের জন্য ১২০টাকা করেm নেয়া হয়। তখন তাদের বলা হয়, মাসে দুই বার করে সারাবছর এই কার্ডধারীদের মাঝে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। এই ঘোষণায় নিম্ন আয়ের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। প্রায় ৫ হাজার মানুষের মাঝে নগদ ১২০টাকা করে নিয়ে এই রেশনকার্ড বিতরণ করা হয়। মিরপুরে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজাল এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু সবার কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের পর হঠাৎ করেই এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রেশনকার্ডধারীদের দেয়া টাকা লোপাট হয়ে যায়।
মধ্যপাইকপাড়ার বাসিন্দা রিক্সাচালক মজিদ বলেন, ‘আমি দিন আনি দিন খাই। কম দামে চাল-ডাল পাওয়ার আশায় ১২০ টাকা দিয়ে কার্ড করেছিলাম। এখন রেশনের বদলে নেতাদের মার খেতে হচ্ছে।
মানুষের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন মধ্যপাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা জরিনা বেগম। কম দামে জিনিস পাবার আশায় তিনিও ১২০ টাকা জমা দিয়ে রেশন কার্ড করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন রেশন পাননি। সফুরা বিবিরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আফজালের কাছে প্রতিবাদ করায় তাকে উল্টো পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা আফজালের বিরুদ্ধে এর আগেও ঐ এলাকায় চাঁদাবাজি, পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি এসব অভিযোগ নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমিনুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।