গাজীপুর প্রতিনিধি :
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিরোধী শক্তি মতাদর্শিক শূন্যতায় নিপতিত হয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা যে রাজনৈতিক আচরণটি দেখি সেটি হতাশাজনক। মতাদর্শিক শূন্যতা থেকে এই আচরণটি এসেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতিরাষ্ট্র যিনি সৃষ্টি করলেন তাঁকে সপরিবারে নির্মমভাবে ১০ বছরের শিশু রাসেলসহ হত্যা করা হল। বাবা, মা, ভাইয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ যখন পরে রইল তখন বাইরে দাঁড়ানো শিশু রাসেলকে বুলেট বিদ্ধ করা হল। সেটি ছিল রাজনীতির কালো রাত। শিশু রাসেলকে যখন বুলেট বিদ্ধ করে স্তদ্ধ করা হয়- সেই থেকে যে রাজনীতি উৎসারিত হয় সেই রাজনীতি প্রত্যাখ্যাত হবে সেটিই সংগত এবং স্বাভাবিক।’
শনিবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কলেজ অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির প্রতিবাদে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য ড. মশিউর রহমান।
দেশের প্রথিতযশা এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, ‘আজ যে শূন্যতা সেটি মতাদর্শিক শূন্যতা। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, উদীচীর অনুষ্ঠানে অথবা রমনার বটমূলে সকালে এসে যখন মানুষ গান গাইছে। নজরুলের চর্চা, রবীন্দ্রনাথের চর্চা করছেন, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করছেন-এর থেকে সুন্দর কী হতে পারে? সেই সৌন্দর্য আপনাদের সইল না। সেখানে আঘাত করলেন, রক্তাক্ত করা হলো রমনার সবুজ মাঠ। যে মানুষ নীরবে বসে ভোরে গান শুনে তাকে রক্তাক্ত করল গ্রেনেড। সেই রাজনীতিতে শূন্যতা আসবে এটিই তো স্বাভাবিক।’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ।