নিজস্ব প্রতিনিধি :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলিতে আতঙ্কে রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় সীমান্তের ওপার থেকে গুলি ও মর্টার শেল বাংলাদেশে আসায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু, কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকার শত শত পরিবার প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত থেকে ১০০ গজ দূরে মিশকাতুন নবী দাখিল মাদ্রাসাসহ সীমান্ত এলাকার ৫টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, আজ (রবিবার) সকাল থেকে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় গোলাবর্ষণ বেড়েছে, বাইশ ফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজা বানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ গুমধুম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক। এসব গোলাবারুদ আর বিস্ফোরকের বিকট শব্দে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
এদিকে মিয়ানমারের গুলিতে প্রবীর ধর নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। আজ সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের ছোড়া দুটি মর্টার শেল ও বেশ কয়েকটি গুলি তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়ায় এসে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছেন অনেকে। তবে সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
মায়ানমার বর্ডার গার্ড ফোর্স (বিজিপি) এর ১৪ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল আজ সকালে বিদ্রোহীদের সাথে প্রচন্ড গোলাগুলির মুখে বাংলাদেশের বান্দরবানে প্রবেশ করেছে। সকাল ৮টার দিকে তারা বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে প্রবেশ করে এবং বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ করেন।