মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নব দম্পতিকে গভীর রাতে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় এক মাস পর কোনো মামলা বা অভিযোগের কথা না জানিয়েই রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তরুণীর মায়ের করা মামলায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং নব দম্পতিকে থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা জিডির ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের কথা বললেও তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, থানার রেকর্ড শাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট তারিখে জিডি বা অভিযোগ থানার রেকর্ড খাতায় লিপিবদ্ধ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান ও বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন চলতি বছরের ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সালিশে নুসরাতকে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলেও স্ত্রী নুসরাত স্বামীর সঙ্গেই থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ১৪ জুলাই নুসরাতের মা, নানী ও খালা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এর সাত দিন পর, ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এসআই শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নব দম্পতিকে আটক করে সরাইল থানায় নিয়ে যায়।
নবদম্পতির পরিবারের দাবি, তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নুসরাতের মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন।
নব দম্পতিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে কি অভিযোগ বা তথ্য ছিল এবং তাঁদের আটক বা গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি কি ছিল এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশ্ন তুলেছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আহসান উল্লাহ বলেন, “সরাইল থানা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা সেই সহযোগিতা করেছি।
অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূল্যে তাদেরকে উদ্ধার করে পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে মামলায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "আমার কাছে জিডি কিংবা অভিযোগের কোন কপি নেই এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এদিকে, সরাইল থানার মুন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়া জানান, ২১ জুলাইয়ের রেকর্ড খাতায় কোনো জিডি বা অভিযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবি, সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দিন ফাহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ বা কোন কারণ ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারে অবশ্যই আইনগত কারণ থাকতে হবে।