দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি সবাইকে মানবিক আচরণ, সতর্কতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রাণহানির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন দুই বাংলার এই খ্যাতিমান অভিনেত্রী।
জয়া আহসান লেখেন, গত কয়েকদিন ধরে চারদিকে বন্যাকবলিত মানুষের অসহায় চিত্র তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। পানিবন্দী পরিবার, আশ্রয়হীন মানুষ এবং শিশুদের কষ্টের দৃশ্য তাকে ব্যথিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের এই কঠিন সময়ে দুর্গত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করেন, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরও সংকট শেষ হবে না। বরং তখন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই নিরাপদ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শুকনো খাবার সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন এই অভিনেত্রী।
বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের প্রতি অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান জয়া। তার মতে, দুর্যোগের সময় এই শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাণীপ্রেমী হিসেবে পরিচিত জয়া আহসান গৃহপালিত ও অসহায় প্রাণীদের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় এসব প্রাণী নিজেদের কষ্ট প্রকাশ করতে পারে না। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
বার্তার শেষাংশে মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, দুর্যোগ মানুষের সহনশীলতা ও মানবিকতার পরীক্ষা নেয়। তাই এই কঠিন সময়ে সবাই যদি সচেতন থাকে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সংকট মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।
সবশেষে তিনি দেশবাসীর নিরাপত্তা কামনা করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং দুর্গত মানুষের জন্য প্রার্থনা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।