যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের জন্য একটি খসড়া চুক্তি কার্যকর হতে পারে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা একে অপরের ওপর কিংবা পরস্পরের মিত্রদের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাবে না। এছাড়া ইরান অঙ্গীকার করবে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগাম কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না। অন্যদিকে বার্তাসংস্থা এক্সিওস জানিয়েছে, এই সমঝোতার ফলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত বন্ধ হওয়ার পথও তৈরি হতে পারে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যদি কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বা হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল পাল্টা হামলার অনুমতি পাবে। উল্লেখ্য, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে মার্চের শুরুতে ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ। পরে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যদিও অভিযোগ রয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান ও ঘরবাড়ি ধ্বংস অব্যাহত রাখে এবং হিজবুল্লাহ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ফাইবার অপটিক ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা শুরু করে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে এবং সেখানে সব জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি ওই পথে কোনো ধরনের টোল আদায় করা হবে না এবং প্রণালিতে পেতে রাখা মাইনও সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে তেহরান। এছাড়া ইরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলেও আশ্বাস দেবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ