দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি বছরেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘ফেউ’র দ্বিতীয় সিজন। নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সূত্রে মিলেছে এমনই আভাস।
সুন্দরবনে শুটিং, চারপাশে কুমিরের ভয়, তার ওপর রাতের তীব্র ঠান্ডা। ওয়েব সিরিজ ‘ফেউ’র শুটিং করতে গিয়ে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সুন্দরবনে টানা প্রায় এক মাস শুটিং হয়েছে সিরিজটির। এর মধ্যে ২০ দিনের বেশি শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন চঞ্চল। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ঠান্ডার চেয়েও বেশি ভয় ছিল কুমিরকে নিয়ে।
‘ফেউ’র শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন শুটিং করেছি তখন ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। মাস খানেক সুন্দরবনে শুটিং হয়েছে, যার মধ্যে আমি ছিলাম ২০ দিনের বেশি। রাতে যখন লঞ্চে ঘুমাতাম, খুব ঠান্ডা লাগত। আমি শীতের জামা-কাপড় পরেই ঘুমাতাম। তবে ঠান্ডার চেয়েও ভয়ের বিষয় ছিল কুমির।’ শুটিংয়ের সময় কুমিরের উপস্থিতি যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি করেছিল, সে কথাও জানান চঞ্চল। তার ভাষায়, ‘আমাদের লঞ্চ যেখানে নোঙর করা ছিল, সেখানে ছিল কুমিরটা। সকালে জানালা দিয়ে মুখ বের করলেই কুমির এবং আরও বিভিন্ন পশু-পাখি দেখা যেত। আমরা লঞ্চ থেকে শুটিং স্পটে যেতাম ছোট ছোট ট্রলারে। রাতেও শুটিং করতে হতো, খুব কঠিন পরিস্থিতি ছিল।’
১৯৭৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মরিচঝাঁপি দ্বীপে ঘটে যাওয়া গণহত্যার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘ফেউ’। তবে ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট থাকলেও সিরিজটি ফিকশনাল। এর গল্প লিখেছেন সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। চিত্রনাট্য করেছেন সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। সিরিজের প্রথম সিজনে দেখা যায়, দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বী একদল মানুষ আশ্রয় নেয় ডুমুরঝাঁপিতে। একপর্যায়ে শরণার্থীদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘরে আগুন দেওয়া, নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া ও নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে সেখানে। এসব ঘটনার ছবি তুলে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ফটোগ্রাফার সুনীল। কিন্তু একসময় নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
দুই যুগ পর সুনীলের তোলা কিছু ছবির সন্ধানে নামে তার ছেলে ড্যানিয়েল। একপর্যায়ে সে জানতে পারে, সেদিন তার বাবাকে নয়, কবর দেওয়া হয়েছিল একটি গাছের গুঁড়ি। এরপর বাবার সন্ধানে শুরু হয় ড্যানিয়েলের যাত্রা। সুনীল বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন এই রহস্য ঘিরেই এগিয়ে যায় গল্প। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফেউ’র প্রথম সিজন। সে সময় জানা গিয়েছিল, দুই সিজনের শুটিং একটানা সম্পন্ন হয়েছে। ফলে প্রথম সিজন মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় সিজন দেখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল দর্শকের মধ্যে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মুক্তির ঘোষণা না আসায় অপেক্ষা বাড়তে থাকে।
দ্বিতীয় সিজন নিয়ে নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান বলেন, ‘আমি নিজেও অপেক্ষায় আছি ফেউ সিরিজের বাকি অংশের জন্য। এই বছরে আমরা ফেউ-এর সম্পূর্ণটা রিলিজ দিতে চাই। কিন্তু পুরো পরিকল্পনাটা এখনো অফিশিয়ালি কনফার্ম হয়নি। কনফার্ম হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ চরকি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, চলতি বছরেই সিরিজটির দ্বিতীয় সিজন মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
চঞ্চল চৌধুরী ছাড়াও ‘ফেউ’ সিরিজের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভি রিজু, এ কে আজাদ সেতুসহ আরও অনেকে।