
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সে সময় পর্দার আড়ালে নানা ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তার দাবি, সে সময়ের সব ঘটনা ও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে এলে অনেকেই বিস্মিত হবেন। তবে বর্তমান দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের কারণে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি নন।
সম্প্রতি ক্রীড়া বিষয়ক পডকাস্ট ‘নট আউট নোমান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, বর্তমানে তিনি আইসিসির সঙ্গে যুক্ত এবং বিসিবির প্রতিনিধিত্বের কারণেই সেখানে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সে সময় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক আলোচনা হয়েছে এবং নানা ঘটনা ঘটেছে। সেসব বিষয় প্রকাশ করলে মানুষের বিস্মিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অতীতের সেই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও দায়িত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার। তাই তিনি পুরোনো বিতর্কে ফিরে যেতে চান না।
ওই সময়ের পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, যারা সরাসরি পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের কাছেই পুরো ঘটনার সব তথ্য ও প্রেক্ষাপট ছিল। বাইরে থেকে কোনো পরিস্থিতি বিচার করা এবং ভেতরে থেকে বাস্তবতা বোঝার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সবকিছু বিবেচনা করে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, বিষয়টি আরও বিচক্ষণতা ও সতর্কতার সঙ্গে সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল।
খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিসহ অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয় না জড়ানোর পক্ষেও মত দেন তামিম। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে অনেক ক্ষেত্রেই তার নিজস্ব পরিসরে থাকতে দেওয়া উচিত।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে গিয়েছিল। তার মতে, সেটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পরিস্থিতির তুলনায় আরও বড় ও জটিল প্রেক্ষাপট ছিল।
কোন দেশ কোথায় খেলবে কিংবা ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে তামিম বলেন, কিছু ক্ষেত্রে খেলাধুলাকে শুধুই খেলাধুলা হিসেবে দেখার মানসিকতা প্রয়োজন। যদিও বাস্তবে সব সময় তা সম্ভব হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তার মতে, বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আরও কার্যকর ও দক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল।