নিজস্ব প্রতিনিধি:
জলবায়ু সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে ৩৫ থেকে বার্ষিক ব্যয় বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-২৮) এ ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কপ-২৮ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রকল্পে বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে এমন ঘোষণা দেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সংক্রান্ত আরও কর্মকাণ্ডে সাড়া জাগাতে একটি নীতি সংশোধনের অংশ হিসেবে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের অর্থায়নের জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে বার্ষিক ব্যয় বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। যা আগে ছিল ৩৫ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ভিত্তিক ব্যাংক এই প্রকল্পে ৪০ বিলিয়ন ব্যয় করবে, যা আগের চেয়ে ৯ বিলিয়ন ডলার বেশি।’
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখা হয়, তাহলে বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই এর বাস্তবায়নের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া দরকার। বৈশ্বিকভাবে অবশ্যই ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
১৭৬০ সালের পর ইউরোপে যখন শিল্পবিপ্লবের সূচনা তখন থেকেই প্রকৃতির বিপদের শুরু। তখন থেকেই পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ শুরু হয়। এর ফলে দিন দিন বাতাসের উষ্ণতা বেড়েছে, হয়েছে বায়ুদূষণ।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অন্তত ১ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে একবিংশ শতাব্দী শেষে পৃথিবীর বুক থেকে প্রায় অর্ধশত দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠে তলিয়ে যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, দাবানল বেশি হচ্ছে। এ কারণে এবারের জলবায়ু সম্মেলনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।