সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি:
পরিযায়ী পাখিদের সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে নানা আয়োজনে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস ২০২৩ উদযাপন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ন্যাচার স্ট্যাডি অ্যান্ড কনজারভেশন ক্লাব (এনএসসিসি)। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে পাখি দেখার প্রতিযোগীতার ইভেন্টের আয়োজন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির জীবনে পানির গুরুত্ব এবং পানি সম্পর্কিত আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রতি মনোযোগী আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার ১৩ মে রাজধানীর ঢাকার মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রাঙ্গণে বিভাগের ছাত্রছাত্রী নিয়ে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভাগের ৬টি দল ১৮ জন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং মোট ৫৫ প্রজাতির পাখি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সকলের অংশগ্রহণে পরিযায়ী পাখির গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে একটি র্যালীর আয়োজন করা হয়। র্যালী শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা করা হয়। এতে অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এসময় বক্তারা বলেন, মানবসৃষ্ট দূষণ, বিশ্বব্যাপী পানির চাহিদা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন পরিযায়ী পাখিদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। এতে করে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। মূলত সকল স্তরের মানুষের মাঝে সচতনতা ও পাখির নিরাপদ বিচরণের জন্য সচেতনতা বাড়াতে এই দিবসটি আয়োজিত হয়েছে।
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উম্মে হাবিবা খাতুন এবং সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান পরিবেশে পরিযায়ী পাখিদের গুরত্ব, তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং তরুণদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা সহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বাস্তব সব অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন মাহফুজ রাসেল। ঢাকা বার্ড রেইসকে উদ্দেশ্য রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাবর্ণি সরকার সরকার এবং বন বিভাগের রাজিব রাশেদুল কবির তাদের অভিজ্ঞতা এবং পরিযায়ী পাখি তথা সকল ধরণের পাখি রক্ষায় ক্লাবের সদস্যদের আরও সচেষ্ট থাকার জন্য আহ্বান জানান।
বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ পরিযায়ী পাখি নিয়ে ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের সাধুবাদ জানিয়ে পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিকে উদ্দ্যেশ্য রেখে ক্লাবকে উৎসাহিত করেন। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং ক্লাবের উপদেষ্টা অনির্বান সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজনটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলকে নিরাপদ রাখা, বিচরণস্থল সংরক্ষণ ও পাখির নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দ্যেশ্যে এই দিবস পালিত হয়। পরিযায়ী পাখির জীবনে পানির গুরুত্ব এবং পানি সম্পর্কিত আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রতি মনোযোগী আহ্বান জানিয়ে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় "পানি: পাখির জীবনচক্রের ধারক।"