আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৯৯ জন। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গাজার আল আকসা হাসপাতালে ৬০০ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর এখনো কোনো খোঁজ নেই। তারা কোথায় আছে কেউ জানে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে কাতারে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার সে বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
৭ অক্টোবর, ইসরায়েলি বাহিনী ইসরায়েলের উপর হামাসের আক্রমণের প্রতিশোধ হিসাবে গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। তিন মাস ধরে গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২২,৮৩৫ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯,৬০০ জন শিশু।
ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছেন। ইসরায়েল পাবলিক ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের একটি জরিপ অনুসারে, ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন যে নেতানিয়াহু গাজা সংঘাতে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার রাফাহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের একজন কাতার ভিত্তিক মিডিয়া আউটলেট আল জাজিরার হামজা ওয়ায়েল দাহদোহ এবং অন্যজন বার্তা সংস্থা এএফপির মুস্তফা থুরায়া। রোববার (৭ জানুয়ারি) গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মোস্তফা এএফপির ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন। আর হামজা ছিলেন আল জাজিরার নিজস্ব প্রতিবেদক। রোববার ইসরায়েলি হামলার খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু পথেই তাদের ওপর হামলা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাফাহ শহরে দুই সাংবাদিককে বহনকারী গাড়িতে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে যেখানে হামলা চালানো হয়েছে, সেটিকে নিরাপদ করিডোর হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইসরায়েল। এই হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (আইডিএফ) কাছে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।