আলমগীর হোসেন আলম, কুমিল্লা জেলা ব্যুরো চীফ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ ও নিরলস সেবার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়া। নিয়মিত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন, চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান এবং অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে কথা বলা ও মানসিকভাবে সাহস জোগানো তাঁর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। রোগীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজন।
রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়ার মতো একজন আন্তরিক চিকিৎসক তাঁদের জন্য আশার জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি নিয়মিত ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের খোঁজ নেন, তাঁদের কথা শোনেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহ দেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাঁর এমন মানবিক আচরণ রোগীদের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়া বলেন, “মানুষের সেবা করাই একজন ডাক্তার হিসেবে আমার দায়িত্ব। আমি সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। জনবল বাড়ানো গেলে বুড়িচংয়ের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং রোগীদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসকের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ রোগীদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়ার রোগীবান্ধব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা গেলে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।