
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ দুর্যোগের মধ্যে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় বাসিন্দা সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় তিন বছর বয়সী শিশু পুষ্প, সে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের ছেলে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নিহত দুই শিশুর পরিবারের হাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জলাবদ্ধতা দ্রুত কমাতে উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেটও খুলে দেওয়া হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদী উভয়ই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বড় অংশ পানির নিচে চলে গেছে।
একইভাবে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও বন্যাকবলিত হয়েছে। অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে সড়ক, কৃষিজমি এবং চিংড়ি চাষের ঘের।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই নির্ধারিত বিপৎসীমার চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।