আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে দেশটির কেন্দ্রীয় উপকূলে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এদিকে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। খবর আল জাজিরা, বিবিসি।
সোমবার (১ জানুয়ারি) জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুতে ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভূমিকম্পের কারণে দেশটিতে সুনামিও আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের ১০ মিনিটের মধ্যে, ১.২ মিটার (প্রায় ৪ ফুট) ঢেউ ইশিকাওয়ার ওয়াজিমা শহরে আঘাত হানে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার থেকে জাপানে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী কম্পনসহ ১৫৫টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৪ মাত্রার। এছাড়া মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) ভোরেও দেশে ছয়টি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় শহর সুঝোতে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের মেয়র মাসুহিরো ইজুমিয়ায় ভূমিকম্পের পরের ঘটনাকে বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছেন।
গত মাসের শুরুর দিকে, ফিলিপাইনে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে জাপানের হাচিজোজিমা দ্বীপে ৪০ সেন্টিমিটার বা ১.৩ ফুট সুনামি ঢেউ আঘাত হানে। দ্বীপটি জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
এছাড়া গত আগস্টে জাপানের হোক্কাইডোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৬ কিলোমিটার নিচে।
২০১১ সালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প জাপানের ফুকুশিমা প্রিফেকচারের দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিকিরণ ছড়িয়ে পড়া ছিল সবচেয়ে খারাপ পারমাণবিক দুর্ঘটনা।