যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার জন্য তেহরান কোনো অনুরোধ জানায়নি বলে স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির দাবি, যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে। তবে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের একজন মধ্যস্থতাকারী সম্প্রতি ইরান সফর করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মেহেজ নিউজ এজেন্সি।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান, অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড সমঝোতার চেতনার পরিপন্থী। তিনি জানান, ইরান কেবল তখনই নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, যখন অপর পক্ষও একইভাবে তাদের অঙ্গীকার পালন করবে।
তিনি আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীর ইরান সফর তেহরানের অনুরোধে নয়; বরং কাতারের পক্ষ থেকেই এ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। ইরান সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। মাশহাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিদের কাছে ইরান তার অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অভিযোগ তুলে বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নতুন কোনো বিষয় নয়। তিনি ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তখনও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তার দাবি, বর্তমান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নতুন হামলা, মার্কিন ট্রেজারির মাধ্যমে তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ—এসব পদক্ষেপ সমঝোতার পরিপন্থী।
বাঘাই বলেন, ইরানের নীতি হচ্ছে ‘প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি’। অর্থাৎ, অপর পক্ষ যদি নিজেদের দায়বদ্ধতা পালন না করে, তাহলে তেহরানও কোনো একতরফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে না। ভবিষ্যতেও এই নীতিই অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অনুরোধে ওই বৈঠক ডাকা হলেও এর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে আইনি কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি আরও জানান, চীন ও রাশিয়া ওই বৈঠকের বিরোধিতা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাঘাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হামলার সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ঘটনায় কোনো নিন্দা জানায়নি।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার (১১ জুলাই) ওমান সফরে যাবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের আওতায় ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।