প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৩, ২০২৬, ১:৫১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২১, ২০২৬, ৬:৩২ পি.এম
আশুগঞ্জে খাল পুনঃখননে সাশ্রয়, ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত প্রায় ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া। মঙ্গলবার অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পুনঃখননকৃত খালগুলো হলো—আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার পর্যন্ত এবং দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত। প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এসব খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৯২৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত মান বজায় রেখে খাল পুনঃখনন, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহনসহ সব ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ফলে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় শুধু খাল পুনঃখননই নয়, খালের দুই পাড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমাস উদ্দিন জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগতমান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠু বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত যাওয়ার ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। ইউএনও দেখিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্য উপজেলা প্রশাসনের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় করে কাজের মান বজায় রাখা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।
Copyright © 2026 বাংলাদেশ কন্ঠ. All rights reserved.