নিজস্ব প্রতিবেদক :
এ সময়ের আলোচিত সাংবাদিক ও কলামিস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক সোহেল সানিকে আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অতীতের আন্দোলন সংগ্রাম ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখায় তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং যুব ক্রীড়া উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা এমপি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, আশি ও নব্বই দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা হিসাবে সোহেল সানি আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখেন। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসাবেও অসামান্য অবদান রাখেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সোহেল সানির ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে অগ্রণী ভুমিকা রাখার জন্য ১৯৯৭ সালে গঠিত আওয়ামী লীগের প্রথম উপ-কমিটিতে (প্রচার ও প্রকাশনা) সদস্য হিসাবে ঠাঁই দেন। বহুল বিতর্কিত ওয়ান ইলেভেনের দিন একটি জাতীয় দৈনিকে "রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন পদত্যাগ না করলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করবে" শীর্ষক একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এর জের ধরে ওয়ান ইলেভেনের দিন গভীর রাতে মুখোশধারী দুষ্কৃতকারীরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বর্বর নির্যাতন চালায়। রিপোর্টের উৎস বলতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাংবাদিক সোহেল সানির সমস্ত শরীরে ধারালো অস্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার বাম পায়ের প্যাটেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জলন্ত সিগারেট দিয়ে তার নাভিকূপে অগ্নিদগ্ধ করা ছাড়াও মাথায় জখম করা হয় এবং দুষ্কৃতকারিরা তাকে মৃত ভেবে শাহজাহানপুর ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা সবুজবাগ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বিএমএ সভাপতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন তার চিকিৎসার ব্যপারে বিশেষ ভুমিকা রাখেন। শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল এবং সর্বশেষ গতবছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয়। সাংবাদিক সোহেল সানি প্রাণে বেঁচে গেলেও বিগত দশ বছর লাঠি ভর করে পথ চলতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ সহানুভূতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোহেল সানিকে ভর্তি করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে বিদেশে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোভিড-১৯ করনোর কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরকম অসুস্থতার মধ্যেও সোহেল সানি তার লেখনী অব্যাহত রেখেছেন।
যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সাংবাদিক সোহেল সানি। তিনি এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং যুব ও ক্রীড়া উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু ও আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মুজিব অন্তঃপ্রাণ সোহেল সানি বঙ্গবন্ধুর একজন অকুতোভয় সৈনিক এবং শেখ হাসিনার একজন একনিষ্ঠ বিশ্বস্ত কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সরকারের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে বরিশালের বানারীপাড়ার কৃতী সন্তান বরেণ্য সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহেল সানি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বানারীপাড়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ তাকে উষ্ণ অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা।