বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ২২ এপ্রিল ২০২৬ ।।
বর্তমান সময়ে দর্শকপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী আইশা খান খুব অল্প সময়েই নিজের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং সাবলীলতার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন। সমসাময়িক ধারায় ভেসে না গিয়ে তিনি সবসময়ই কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা দেখিয়েছেন। নাটক, ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই ধীরে ও পরিমিতভাবে এগিয়ে চলেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ক্যারিয়ার ও কাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, আপাতত সব ধরনের কাজে যুক্ত হওয়ার কোনো তাড়াহুড়া তার নেই। বরং নিজের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে নিজেকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
আইশা খান বলেন, তার মনে হয় না সবার সব ধরনের কাজ করা জরুরি। তিনি মনে করেন, তিনি এখনো বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও হতে পারেন। আগের কাজগুলো দর্শকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না-ও হয়ে থাকতে পারে এবং সেখান থেকে নিজের সীমাবদ্ধতা তিনি বুঝতে পেরেছেন। থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় তার শেখার প্রক্রিয়া এখনো চলছে বলেও জানান তিনি।
নিজের অভিনীত ‘শেকড়’ সিনেমার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, বিদেশে ছবিটি ভালো সাড়া পেয়েছে এবং তার অভিনীত ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রটি প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই সাফল্যের পরপরই নতুন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তার।
তিনি বলেন, ‘শেকড়ের পর আপাতত নতুন কোনো কাজ করার ইচ্ছে নেই। আমি এখনো শিখছি, অনেক ভুল করছি এবং সেই ভুল থেকেই নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। আরও পরিণত হয়ে তারপর সামনে এগোতে চাই।’
বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান অগ্রগতি নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ২০২২ সালে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রশংসা করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্যও তাকে আনন্দিত করেছে বলে জানান আইশা।
তিনি আরও বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস আমার প্রিয় নির্মাতার কাজ, যার সঙ্গে আমার আগেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেখানে পরিচিত শিল্পীদের সাফল্য দেখে ভালো লাগছে। সামনে ‘রইদ’ আসছে, যেটি নিয়ে আমি আশাবাদী। আশা করি, হাওয়া যেমন ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল, রইদও তেমনই কিছু নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।’