আয়েশা আক্তার :
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল হলেও দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে নভেম্বর মাসের শেষ দিক থেকেই। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি কিছুটা পাল্টে গেছে যার কারণে শীতকালের সময় এবং ধরন ঠিক আগের মতো হচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ এর প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিপাতের পর ডিসেম্বর মাসের ১০ থেকে ১৬ তারিখের পর আবহাওয়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে বলে আবহাওয়াবিদরা জানালেও তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না দেশে।
এমাসের দ্বিতীয়ার্ধ, অর্থাৎ ১৬ তারিখের পর থেকে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত অর্থে শীতকাল শুরুর সম্ভাবনা দেখা গেলেও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি থাকছে। এবং রাতের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার কথা থাকলেও হালকা উষ্ণতাতেই রাত কাটাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী কিছু জেলা। তবে, দেশে প্রায় সময়ই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছিল এ বছরেরই জুন মাসে। আমেরিকা ও ইউরোপের মতো শীতপ্রধান জায়গায় তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করেছে মানুষ। বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা উচ্চতম রেকর্ড ছুঁয়েছে যার একটা প্রধান কারণ ছিল ‘এল নিনো’ নামে প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র। এই ‘এল নিনো’ ও একই সাথে বিশ্বের বাড়তে থাকা তাপমাত্রার প্রভাবে এবারের শীতকালটা আগের তুলনায় কিছুটা উষ্ণ হওয়ার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এল নিনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে যে অবস্থাটা মে মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এল নিনো সক্রিয় থাকা অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে সাধারণত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে একবার এই এল নিনো দেখা দেয়- যখন তাপমাত্রা উর্ধমুখী হয়।
এদিকে, শীতকালে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ আসন্ন রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলে রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক উৎপাদন ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণত, শীতকালে কম বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এসব ফসল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবজনিত কারণে আসন্ন রবি মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বই ভুগছে। তবে ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে এর প্রভাব একটু বেশি।
আবার শীতের দাপট না থাকায় কমে গেছে গরম কাপড়ের বচাকেনা। একপ্রকার লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩০ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় হিসেবে স্বাভাবিকভাবে ডিসেম্বর মাসে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। এবছর ডিসেম্বর মাসে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ১৪.৫ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা। এ তথ্য অবশ্য পুরো দেশজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যা রেকর্ড করা হয় তার গড় হিসাব। অঞ্চলভেদে তাপমাত্রার তারতম্য হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এবার তেমন শীত পড়বে না সেটা ভাবলেও ভুল হবে। কারন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর এই সময়ে যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।