জাবি প্রতিনিধি :
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম নারী ভিসি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অবসরে গেছেন।
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ কর্মদিবস ছিল ফারজানা ইসলামের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রণীত সংবিধি অনুযায়ী ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে গেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি টানলেন দেশের প্রথম নারী উপাচার্য।
অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায়। তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশি নগরে। তিনি ১৯৭৩ সালে ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও ১৯৮০ সালে এমএসএস সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন ফারজানা ইসলাম।
১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন ড. ফারজানা ইসলাম। ২০০৬ সালে অধ্যাপক হন তিনি।
অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ২০১৪ সালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম নারী ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে ২০১৮ সাল থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে তার ভিসি থাকাকালে দীর্ঘদিন পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন, ২০১৬ সালের এপ্রিলে ডিন নির্বাচন, একই বছরের জুন মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন, অর্থ কমিটি ও শিক্ষা পর্ষদে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে সিনেটর নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি থাকাকালে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতিসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্দোলন করলেও জাবির প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেন তিনি। এসময় সব গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ২০২২ সালের ১ মার্চ তার দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের সময়সীমা শেষ হয়। এরপর কার্যত বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপরিসরে দেখা যায়নি তাকে। সর্বশেষ চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-সমিতির নির্বাচনে এসে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেন ফারজানা ইসলাম।
অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের চেয়ারপারসন ছিলেন। তিনি নগর গবেষণা কেন্দ্রের আজীবন সদস্য ও এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশের সদস্য ছাড়াও স্টামফোর্ড ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।