ইউসুফ জামিল, জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা ও হল সংলগ্ন সকল দোকানে নতুন খাবারের মূল্য নির্ধারণ করেছে জাবি প্রশাসন। যার ফলশ্রুতিতে বহদিন ধরে অব্যাহত থাকা বটতলার মুনাফালোভী দোকানদারদের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা, শহীদ সালাম-বরকত হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)’ নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করেছে। CYB-JU (কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ) এর প্রধান উপদেষ্টা ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বটতলাসহ অন্যান্য হল সংলগ্ন খাবারের দোকান-মালিক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে খাবারের নতুন মূল্যতালিকা নির্ধারণ করা হয়।
'ইকোপার্ক' নামে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিদিন হাজার হাজার বহিরাগত ঘুরতে আসেন। ঘুরতে এসে ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ বটতলার ভর্তার স্বাদ অন্বেষণ করেন না এমন খুব কম লোকই পাওয়া যায়।এরই সুযোগ নিয়ে বটতলার অসাধু ব্যবসায়ীরা খাবারের মূল্য অতিমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। যার দুর্ভোগ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয়। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত মূল্যে খাবার ক্রয় করা অনেকটা দুঃসাধ্যের পর্যায়ে চলে যায়।
ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুবিন ইসলাম বলেন, অফিস বন্ধের দিনগুলোতে প্রায় পরিবারের সাথে ক্যাম্পাস ঘুরতে আসা হয়। সারাদিন ঘুরে দুপুরের খাওয়ার জন্য বটতলায় আসি। কিন্তু প্রতিনিয়ত খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে আমি সাধুবাদ জানাই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৫১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জয়া মন্ডল বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় দৈনিক তিন বেলা খাওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বটতলার খাবারের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। আমি দোকানগুলোর খাবারের মান নিয়ে সন্ধিহান। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, খাবারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি অবস্থা শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমি আশা করি CYB যথাযথভাবে পদক্ষেপ নিয়ে খাবারের দামের পাশাপাশি মাননিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
CYB এর নতুন মূল্য-তালিকা অনুযায়ী, ভাতের দাম অপরিবর্তিত রেখে ফুল প্লেট ১০টাকা করা হয়েছে, হাফ প্লেট ভাত ৫ টাকা, গরুর মাংসের (৬ পিস) দাম ১২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১পিস ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫ টাকা করা হয়, গরুর কলিজা ১২০-১৫০ টাকা থেকে ১০০, খাসির গোশতের দাম আগের মতোই ১৩০ টাকা, টার্কি মুরগির দাম আগের মতোই ১২০ টাকা, মুরগি (সোনালি) দাম বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা থেকে ৬০-৮০ টাকা করা হয়, হাঁসের মাংস ১৫০ থেকে পরিবর্তন করে ১২০ টাকা, লটপটি ৪০-৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ টাকা, কাতল/রুই মাছ/মাগুর বোয়াল ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫ টাকা, সবজি ভাজি ১০-১৫ টাকা, বেগুন ভাজি ১০ টাকা, সবজি খিচুড়ি ২৫-৩০ টাকা থেকে ১৫-৩০ টাকা, পোলাও (ফুল/হাফ) ২০-৩০ টাকা, ডাটা/লতি (চিংড়ি) ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা, নান/পরোটা/রুটির দাম আগের মতোই ১০ টাকা, মুড়ি ঘণ্টার দাম ২৫-৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সভায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা টার্কি মুরগির নাম করে লেয়ার মুরগী, রুই মাছের নাম করে গ্রাসকার্প মাছ পরিবেশন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোকান মালিকদের সতর্ক করে বলে, এরকম কোনো অভিযোগ আসলে প্রমাণ সাপেক্ষে ঐ দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাসহ দোকান বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে। এছাড়াও নতুন খাবারের সাথে বাসি খাবার মিশিয়ে বিক্রি, অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার পরিবেশন ইত্যাদি অভিযোগও উঠে আসে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোকান মালিকদের সতর্ক করে আরো বলেন, উল্লিখিত দামে খাবার বিক্রি হচ্ছে কি না বা খাবারের মান ঠিক রাখা হচ্ছে কি না এ বিষয়ে তদারকির জন্য মনিটরিং সেল থাকবে।কোন অসংগতি প্রমাণিত হলে অসাধুচক্রকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।