সেতুর দায়, ভোক্তার বোঝা: চালের দাম বাড়ল ২০ টাকা
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৬১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬
পদ্মা সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র টেনেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করার ফলে কৃষি ও সেচখাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চালের দামে।
নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত গণভোট বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, যদি পদ্মা সেতুর পেছনে খরচ করা অর্থ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তাহলে উৎপাদন বাড়ত এবং চালের দাম অন্তত ৫ টাকা কমানো সম্ভব হতো। বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে—সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ব্যয়ের উদ্বৃত্ত না থাকলে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে। তার মতে, এটি এমন এক সমস্যায় রূপ নেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সরকারই সামাল দিতে পারে না। তাই নাগরিকদের দাবি তোলার সময় রাষ্ট্রের আয়ের সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি।
তিনি সাবেক সরকারের সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর বড় প্রকল্পে জোর দিয়েছে। বহু স্থলবন্দর নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যার সিংহভাগ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে।
তার ভাষায়, আগের সরকারের লক্ষ্য ছিল ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটানো, কিন্তু সেই ব্যয় থেকে আয় বৃদ্ধির কোনো বাস্তব পরিকল্পনা ছিল না। অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের তিনটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা পদে থেকেই নির্বাচন করেছে এবং ভোটার উপস্থিতি সেখানে গুরুত্বহীন ছিল। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে তিনি জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।























