ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুবিরনন্দী হারিয়ে যাবার নয়

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪ ২২ বার পঠিত

প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে দিন, মাস এবং বছরও চলে গেছে কিন্তু রয়ে গেছে তার কথা, সুর ও গায়কী। তিনি বাংলা গানের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি শিল্পী সুবীর নন্দী। তার চলে যাবার ৫টি বছর পূর্ণ হয়ে গেলো অথচ এখনো তার গায়কীর মধ্য দিয়ে তিনি রয়ে গেছেন আমাদের মাঝেই। একজন প্রকৃত শিল্পীর স্বার্থকতা তো এটাই।

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘সূর্যগ্রহণ’ সিনেমায়। তবে ‘দিন যায় কথা থাকে’ সিনেমায় এই টাইটেল গান গেয়েই তিনি আক্ষরিক অর্থে সিনেমার গানে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। এই গানের জন্য বাচসাস পুরস্কারও জয় করে নিয়েছিলেন। আমাদের চলচ্চিত্রের কালজয়ী ‘অশিক্ষিত’ সিনেমার বিখ্যাত গান ‘ ও মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায়।

এরপর ‘লাল গোলাপ’ সিনেমার ‘পাখিরে তুই দূরে থাকলে’ অথবা ‘উছিলা’ সিনেমার ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’ বা ‘মাটির মানুষ’ সিনেমার ‘বন্ধু হতে গিয়ে তোমার শত্রু বলে গন্য হলাম’ এর মতো কালজয়ী গান গেয়ে নিজেকে নিয়ে যান এক অন্য উচ্চতায়।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’ গানের সুবাদে তৃতীয় বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন সুবীর নন্দী। উল্লেখ্য এই গানটিকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান বললে ভুল হবেনা। কারন এই প্রজন্মের মানুষের কাছেও তিনি এই গানটি দিয়ে এখনো সমানভাবে সমাদৃত এবং জনপ্রিয়। সর্বমোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন তিনি।

‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘পিঁপড়া খাবে বড় লোকের ধন’, ‘নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে এখনো তিনি বেচে আছেন আমাদের মাঝে।

দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে ক্যাসেট, বেতার, টেলিভিশন এবং সিনেমা মিলিয়ে এই কিংবদন্তি গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অবদান স্বরুপ সরকারের তরফ থেকে পেয়েছিলেন একুশে পদক।

২০১৯ সালের ৭ই মে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুবীর নন্দীর জীবনাবসান হয়। এই কিংবদন্তির চিরপ্রস্থান বাংলা সংগীত সুরের কখনোই পূরণ হবার নয়। তার শূন্যতা সংগীতাঙ্গন অনুভব করলেও এই শিল্পীর কর্ম ভাণ্ডারের জনপ্রিয় সব গানের মাঝেই তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন আজীবন।

সুবিরনন্দী হারিয়ে যাবার নয়

আপডেট সময় : ০৩:২০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪

প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে দিন, মাস এবং বছরও চলে গেছে কিন্তু রয়ে গেছে তার কথা, সুর ও গায়কী। তিনি বাংলা গানের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি শিল্পী সুবীর নন্দী। তার চলে যাবার ৫টি বছর পূর্ণ হয়ে গেলো অথচ এখনো তার গায়কীর মধ্য দিয়ে তিনি রয়ে গেছেন আমাদের মাঝেই। একজন প্রকৃত শিল্পীর স্বার্থকতা তো এটাই।

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘সূর্যগ্রহণ’ সিনেমায়। তবে ‘দিন যায় কথা থাকে’ সিনেমায় এই টাইটেল গান গেয়েই তিনি আক্ষরিক অর্থে সিনেমার গানে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। এই গানের জন্য বাচসাস পুরস্কারও জয় করে নিয়েছিলেন। আমাদের চলচ্চিত্রের কালজয়ী ‘অশিক্ষিত’ সিনেমার বিখ্যাত গান ‘ ও মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে যায়।

এরপর ‘লাল গোলাপ’ সিনেমার ‘পাখিরে তুই দূরে থাকলে’ অথবা ‘উছিলা’ সিনেমার ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’ বা ‘মাটির মানুষ’ সিনেমার ‘বন্ধু হতে গিয়ে তোমার শত্রু বলে গন্য হলাম’ এর মতো কালজয়ী গান গেয়ে নিজেকে নিয়ে যান এক অন্য উচ্চতায়।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’ গানের সুবাদে তৃতীয় বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন সুবীর নন্দী। উল্লেখ্য এই গানটিকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান বললে ভুল হবেনা। কারন এই প্রজন্মের মানুষের কাছেও তিনি এই গানটি দিয়ে এখনো সমানভাবে সমাদৃত এবং জনপ্রিয়। সর্বমোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন তিনি।

‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘পিঁপড়া খাবে বড় লোকের ধন’, ‘নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে এখনো তিনি বেচে আছেন আমাদের মাঝে।

দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে ক্যাসেট, বেতার, টেলিভিশন এবং সিনেমা মিলিয়ে এই কিংবদন্তি গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অবদান স্বরুপ সরকারের তরফ থেকে পেয়েছিলেন একুশে পদক।

২০১৯ সালের ৭ই মে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুবীর নন্দীর জীবনাবসান হয়। এই কিংবদন্তির চিরপ্রস্থান বাংলা সংগীত সুরের কখনোই পূরণ হবার নয়। তার শূন্যতা সংগীতাঙ্গন অনুভব করলেও এই শিল্পীর কর্ম ভাণ্ডারের জনপ্রিয় সব গানের মাঝেই তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন আজীবন।