সামরিক প্রশ্নে নীরব ট্রাম্প, শুল্ক আরোপে পূর্ণ সমর্থন
- আপডেট সময় : ১১:৫১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৪ বার পঠিত

বাংলাদেশের কণ্ঠ।। মঙ্গলবার।। ২০.০১.২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মার্কিন দাবির বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর কঠোর বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ করা হবে—এমন হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি ‘১০০ শতাংশ’ অটল থাকবেন।
সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে তার অবস্থানের বিরোধিতা করলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। তার ভাষায়, “আমি এটি করবো—১০০ শতাংশ করবো।”
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে, যা ১ জুন থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক অব্যাহত থাকবে। একই নীতি ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, হুমকি দিয়ে কোনো ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করা যায় না। তার ভাষায়, “কিছু লাল রেখা আছে, যা অতিক্রম করা যায় না।”
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও একই সুরে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের।
সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কোনো মন্তব্য নয়।”
ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটো জোটের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে জোট। ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকী উপস্থিতি হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, “আমাদের সংঘাতে যাওয়ার আগ্রহ নেই, তবে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবো না। বাণিজ্যিক হুমকি কোনো সমাধান নয়—সার্বভৌমত্ব বাণিজ্যের বিষয় হতে পারে না।”
এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে করণীয় নির্ধারণে আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের মধ্যে বার্তা বিনিময়ের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করেন। জবাবে স্টোর বলেন, নোবেল পুরস্কার একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে, নরওয়ে সরকার নয়। তিনি আরও জানান, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ এবং এ বিষয়ে নরওয়ে ডেনমার্কের পূর্ণ সমর্থক।
এদিকে নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে একাধিক বিমান পাঠানো হয়েছে। তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত রুটিন কার্যক্রমের অংশ বলে জানিয়ে তারা বলেছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল।





















