ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাজাপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা Logo ভিভো ভি৮০ লাইটঃ প্রি-অর্ডারে ভিভো-এপেক্সের বিশেষ উপহার Logo জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি চাপ, ২০২৬ সালে খরচ বাড়তে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা Logo গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছরে বিএনপি বড়ইয়া ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ: হাসপাতালে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি Logo বিশ্বের প্রথম বাজার হিসেবে বাংলাদেশে উন্মোচিত হলো টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি সাথে এসেছে টেকনো ক্যামন এয়ার Logo লিওনেল মেসিকে ধন্যবাদ জানালেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো, বললেন অবিস্মরণীয় স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞ Logo এআইয়ের ভবিষ্যৎ গড়ছেন যারা, টাইমের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ Logo দীর্ঘ আন্দোলনের পথ পেরিয়ে দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী Logo টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে অজানা তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত তামিম ইকবালের

সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি চলছে ইচ্ছেমতো

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৬২ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শুক্রবার ।। ০৩ মার্চ ২০২৬ ।।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের ১ হাজার ৩৪১ টাকার তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি। তবে এই নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে না; বরং অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির চিত্র পাওয়া যায়নি।

**সরকারি দাম ও বাজারের বাস্তবতা**
বিইআরসি ঘোষণায় যেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থাকার কথা, সেখানে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে মাসিক গ্যাস ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। শুধু ১২ কেজিই নয়, অন্যান্য মাপের সিলিন্ডার কিনতেও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

**ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া**
সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, আগেও এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যেত না। নতুন করে দাম বাড়ানোর পর বিক্রেতারা আরও বেশি মূল্য নিচ্ছেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এখন ২২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি দামে কখনোই এলপিজি পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

**বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা**
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে বেশি দামে কেনার কারণে তাদেরও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে টঙ্গীর এক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিঠুও জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২২০০ টাকায় বিক্রি করছেন, কারণ তাদের ক্রয়মূল্যই বেশি।

**বিশেষজ্ঞদের মতামত**
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগস :

সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি চলছে ইচ্ছেমতো

আপডেট সময় : ০৮:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শুক্রবার ।। ০৩ মার্চ ২০২৬ ।।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের ১ হাজার ৩৪১ টাকার তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি। তবে এই নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে না; বরং অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির চিত্র পাওয়া যায়নি।

**সরকারি দাম ও বাজারের বাস্তবতা**
বিইআরসি ঘোষণায় যেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থাকার কথা, সেখানে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে মাসিক গ্যাস ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। শুধু ১২ কেজিই নয়, অন্যান্য মাপের সিলিন্ডার কিনতেও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

**ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া**
সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, আগেও এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যেত না। নতুন করে দাম বাড়ানোর পর বিক্রেতারা আরও বেশি মূল্য নিচ্ছেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এখন ২২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি দামে কখনোই এলপিজি পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

**বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা**
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে বেশি দামে কেনার কারণে তাদেরও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে টঙ্গীর এক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিঠুও জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২২০০ টাকায় বিক্রি করছেন, কারণ তাদের ক্রয়মূল্যই বেশি।

**বিশেষজ্ঞদের মতামত**
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।