ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহরুখ খানের উত্থান যেভাবে!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪ ১৯ বার পঠিত

আজ এমন এক প্রেমিকের গল্প শোনাবো যার প্রেম ‘স্বদেশ’ এর গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘পারদেশ’ এর মানুষকেও শিখিয়েছে কিভাবে ‘মোহাব্বাতে’ হয়, কিভাবে ‘ডর’কে জয় করে জীবনের পথে ‘চালতে চালতে’ নিজের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া’কে জয় করতে হয়। যার প্রেম দেখে মনে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, যার প্রেম দেখে ভালবাসার জন্য ‘দেবদাস’ হতে ইচ্ছে হয়, প্রিয় মানুষটিকে বলতে ইচ্ছে হয় ‘ম্যায় হু না’! বলছিলাম বলিউডের মহানায়ক শাহরুখ খানের কথা।

কেউ তাকে বলে ‘অতি-অভিনেতা’, আবার কেউ তাকে বলে অভিনয় জগতের ঈশ্বর। কেউ যখন তাকে তার মন্দ চলচ্চিত্রের জন্য গালি দিচ্ছে, তখন কেউ আবার তার অসাধারণ চলচ্চিত্রগুলোকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে। কেউ বলছে ‘বুড়ো’, তো কেউ দাবি করছে ‘চিরতরুণ’। কিন্তু যে যাই বলুক, তিনি শাহরুখ খান ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। নিন্দুকের কথায় তিনি যেমনি কান দেন না, তেমনি গাঁ ভাসান না ভক্তদের অতি আদুরে প্রশংসা-বাক্যে। তাই তো আজ তার সাফল্য আকাশ ছুঁয়েছে। তিনি আজ বলিউডের বাদশা, খানদের রাজা।

১৯৮৯ সালে সিরিয়ালের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯২ সালে শাহরুখ খান “দিওয়ানা” সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক করেন। এই সিনেমা বক্স অফিসে সফল হয় এবং শাহরুখ রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। এরপর তিনি “বাজিগর”, “দর”, এবং “আঞ্জাম” এর মতো বিভিন্ন সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন।

শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে” সিনেমা। এই সিনেমা বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত। এরপর “কুছ কুছ হোতা হ্যায়”, “দিল সে”, “মহব্বতাইন”, “কভি খুশি কভি গম” এবং “চাক দে! ইন্ডিয়া” সহ আরও অনেক রোমান্টিক এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমায় অভিনয় করেন।

২০০১ সালে তার অভিনীত এবং সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত ছবি ‘দেবদাস’ ছিলে সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি। ছবিটি দশটি ফিল্মফেয়ার জেতে এবং শাহরুখকে তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সহ একাধিক পুরস্কার এনে দেয়। তাছাড়া ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে সম্মানজনক ‘বাফটা’ পুরস্কারও অর্জণ করেছে। এমনকি ক্যারিয়ারে মোট ৩৭৬ বার বিভিন্ন দিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন যার মধ্যে ২৭৪ বারই জিতেছেন কোনো না কোনো পুরস্কার।

শাহরুখ খান অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল। তিনি “রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট” নামক প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা অনেক সফল সিনেমা এবং টিভি শো প্রযোজনা করেছে। এছাড়া, তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) নামে একটি আইপিএল ক্রিকেট দলের মালিক।

শাহরুখ খানের উত্থান এবং সাফল্যের গল্পটি আমাদের শেখায় যে কঠোর পরিশ্রম, সংকল্প এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তিনি শুধুমাত্র একজন সফল অভিনেতা নন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বও। তার জীবনের গল্পটি সত্যিই প্রেরণাদায়ক।

শাহরুখ খানের উত্থান যেভাবে!

আপডেট সময় : ০২:১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

আজ এমন এক প্রেমিকের গল্প শোনাবো যার প্রেম ‘স্বদেশ’ এর গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘পারদেশ’ এর মানুষকেও শিখিয়েছে কিভাবে ‘মোহাব্বাতে’ হয়, কিভাবে ‘ডর’কে জয় করে জীবনের পথে ‘চালতে চালতে’ নিজের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া’কে জয় করতে হয়। যার প্রেম দেখে মনে ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, যার প্রেম দেখে ভালবাসার জন্য ‘দেবদাস’ হতে ইচ্ছে হয়, প্রিয় মানুষটিকে বলতে ইচ্ছে হয় ‘ম্যায় হু না’! বলছিলাম বলিউডের মহানায়ক শাহরুখ খানের কথা।

কেউ তাকে বলে ‘অতি-অভিনেতা’, আবার কেউ তাকে বলে অভিনয় জগতের ঈশ্বর। কেউ যখন তাকে তার মন্দ চলচ্চিত্রের জন্য গালি দিচ্ছে, তখন কেউ আবার তার অসাধারণ চলচ্চিত্রগুলোকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে। কেউ বলছে ‘বুড়ো’, তো কেউ দাবি করছে ‘চিরতরুণ’। কিন্তু যে যাই বলুক, তিনি শাহরুখ খান ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। নিন্দুকের কথায় তিনি যেমনি কান দেন না, তেমনি গাঁ ভাসান না ভক্তদের অতি আদুরে প্রশংসা-বাক্যে। তাই তো আজ তার সাফল্য আকাশ ছুঁয়েছে। তিনি আজ বলিউডের বাদশা, খানদের রাজা।

১৯৮৯ সালে সিরিয়ালের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯২ সালে শাহরুখ খান “দিওয়ানা” সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক করেন। এই সিনেমা বক্স অফিসে সফল হয় এবং শাহরুখ রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। এরপর তিনি “বাজিগর”, “দর”, এবং “আঞ্জাম” এর মতো বিভিন্ন সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন।

শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে” সিনেমা। এই সিনেমা বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত। এরপর “কুছ কুছ হোতা হ্যায়”, “দিল সে”, “মহব্বতাইন”, “কভি খুশি কভি গম” এবং “চাক দে! ইন্ডিয়া” সহ আরও অনেক রোমান্টিক এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমায় অভিনয় করেন।

২০০১ সালে তার অভিনীত এবং সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত ছবি ‘দেবদাস’ ছিলে সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি। ছবিটি দশটি ফিল্মফেয়ার জেতে এবং শাহরুখকে তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সহ একাধিক পুরস্কার এনে দেয়। তাছাড়া ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে সম্মানজনক ‘বাফটা’ পুরস্কারও অর্জণ করেছে। এমনকি ক্যারিয়ারে মোট ৩৭৬ বার বিভিন্ন দিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন যার মধ্যে ২৭৪ বারই জিতেছেন কোনো না কোনো পুরস্কার।

শাহরুখ খান অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল। তিনি “রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট” নামক প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা অনেক সফল সিনেমা এবং টিভি শো প্রযোজনা করেছে। এছাড়া, তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) নামে একটি আইপিএল ক্রিকেট দলের মালিক।

শাহরুখ খানের উত্থান এবং সাফল্যের গল্পটি আমাদের শেখায় যে কঠোর পরিশ্রম, সংকল্প এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তিনি শুধুমাত্র একজন সফল অভিনেতা নন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বও। তার জীবনের গল্পটি সত্যিই প্রেরণাদায়ক।