ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লতা মঙ্গেশকর কেন বিয়ে করেন নি?

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ৪১ বার পঠিত

ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গীতভূবনের কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর। সঙ্গীতের নাইটিঙ্গেল হিসেবে খ্যাত এই শিল্পীর গান ও তাঁর কণ্ঠ মানুষের প্রিয়। তাঁর কণ্ঠের প্রশংসা করতে গিয়ে দেবী সরস্বতীর কথা টেনে আনেন কেউ কেউ। তাঁর কণ্ঠের প্রশংসা করতে গিয়ে শব্দ কম পড়ে যায়। কিন্তু এই অসাধারণ গায়িকা লতা মঙ্গেশকর কখনও বিয়ে করেননি। অবিবাহিত থেকেছেন। কেন লতা মঙ্গেশকর বিয়ে করেননি, এই প্রশ্ন আজও আমাদের মনে ঘুরপাক খায়।

বিয়ে না করা প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকর জানিয়েছিলেন, পরিবার তার কাছে বিয়ের চেয়েও বেশি জরুরি ছিল যার কারণেই বিয়ের পিড়িতে বসেননি এ সুর সম্রাজ্ঞী।

বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ছোট্ট কাঁধে। ধীরে ধীরে এবং স্থিরভাবে, লতার পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ ছিল। তিনি সবার জন্য চিন্তা করতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, একসময় তিনি নিজের জন্য বাঁচতে ভুলে গিয়েছিলেন। মূলত, এই কারনেই নিজের সংসার জীবন শুরুর কথা ভাবেননি তিনি।

লতা মঙ্গেশকর খুব অল্প বয়সেই গানের জগতে প্রবেশ করেন। খুব অল্প বয়সেই খ্যাতিও পেয়ে যান। তবে চর্চা কখনো ছাড়েননি তিনি। গানের প্রতি প্রচণ্ড ভালবাসা ও পরিবারের উৎসাহেই প্লেব্যাকে জনপ্রিয় থাকা অবস্থাতেও তিনি সংগীতচর্চা চালিয়ে যান। ১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে একজন পেশাগত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে।

প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে অসংখ্য হিট সুপারহিট গান তিনি উপহার দিয়েছেন শ্রোতা-দর্শককে। ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক সফল প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে ধরা হয় লতা মঙ্গেশকরকে। নিজের সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে ১৯৫০ সাল থেকে সারা বিশ্বের শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবির গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। হিন্দিসহ প্রায় ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন, যা একটি বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে।

১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গান গেয়ে লতা মঙ্গেশকরের নাম ওঠে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। এই সময়ে তিনি ২০টি ভাষায় ২৫০০০-এরও বেশি গানে কণ্ঠ দেন।

ভারতীয় প্রথম শিল্পী হিসেবে লতা মঙ্গেশকর লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠান করেন। ১৯৭২ সালে পরিচয় ছবিতে ‘বিতি না বিতাই র্যায়না’ গানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পান। ১৯৬৯ সালে পদ্মভূষণ এবং ১৯৭১ সালে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত হন তিনি। ২০০১ সালে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন এই কিংবদন্তি।

২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি চিরকুমারী হয়েই মৃত্যুবরণ করেন কিংবদন্তী এই শিল্পী। মূলত পরিবারের জন্যই চিরকুমারী ছিলেন লতা মঙ্গেশকর। বিয়ে করেননি কখনো। তবে সংসার না থাকলেও কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন এই কিংবদন্তি।

লতা মঙ্গেশকর কেন বিয়ে করেন নি?

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গীতভূবনের কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর। সঙ্গীতের নাইটিঙ্গেল হিসেবে খ্যাত এই শিল্পীর গান ও তাঁর কণ্ঠ মানুষের প্রিয়। তাঁর কণ্ঠের প্রশংসা করতে গিয়ে দেবী সরস্বতীর কথা টেনে আনেন কেউ কেউ। তাঁর কণ্ঠের প্রশংসা করতে গিয়ে শব্দ কম পড়ে যায়। কিন্তু এই অসাধারণ গায়িকা লতা মঙ্গেশকর কখনও বিয়ে করেননি। অবিবাহিত থেকেছেন। কেন লতা মঙ্গেশকর বিয়ে করেননি, এই প্রশ্ন আজও আমাদের মনে ঘুরপাক খায়।

বিয়ে না করা প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকর জানিয়েছিলেন, পরিবার তার কাছে বিয়ের চেয়েও বেশি জরুরি ছিল যার কারণেই বিয়ের পিড়িতে বসেননি এ সুর সম্রাজ্ঞী।

বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ছোট্ট কাঁধে। ধীরে ধীরে এবং স্থিরভাবে, লতার পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ ছিল। তিনি সবার জন্য চিন্তা করতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, একসময় তিনি নিজের জন্য বাঁচতে ভুলে গিয়েছিলেন। মূলত, এই কারনেই নিজের সংসার জীবন শুরুর কথা ভাবেননি তিনি।

লতা মঙ্গেশকর খুব অল্প বয়সেই গানের জগতে প্রবেশ করেন। খুব অল্প বয়সেই খ্যাতিও পেয়ে যান। তবে চর্চা কখনো ছাড়েননি তিনি। গানের প্রতি প্রচণ্ড ভালবাসা ও পরিবারের উৎসাহেই প্লেব্যাকে জনপ্রিয় থাকা অবস্থাতেও তিনি সংগীতচর্চা চালিয়ে যান। ১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে একজন পেশাগত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে।

প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে অসংখ্য হিট সুপারহিট গান তিনি উপহার দিয়েছেন শ্রোতা-দর্শককে। ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক সফল প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে ধরা হয় লতা মঙ্গেশকরকে। নিজের সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে ১৯৫০ সাল থেকে সারা বিশ্বের শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবির গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। হিন্দিসহ প্রায় ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন, যা একটি বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে।

১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গান গেয়ে লতা মঙ্গেশকরের নাম ওঠে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। এই সময়ে তিনি ২০টি ভাষায় ২৫০০০-এরও বেশি গানে কণ্ঠ দেন।

ভারতীয় প্রথম শিল্পী হিসেবে লতা মঙ্গেশকর লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠান করেন। ১৯৭২ সালে পরিচয় ছবিতে ‘বিতি না বিতাই র্যায়না’ গানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পান। ১৯৬৯ সালে পদ্মভূষণ এবং ১৯৭১ সালে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত হন তিনি। ২০০১ সালে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন এই কিংবদন্তি।

২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি চিরকুমারী হয়েই মৃত্যুবরণ করেন কিংবদন্তী এই শিল্পী। মূলত পরিবারের জন্যই চিরকুমারী ছিলেন লতা মঙ্গেশকর। বিয়ে করেননি কখনো। তবে সংসার না থাকলেও কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন এই কিংবদন্তি।