ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে এগিয়ে?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ৯৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। দেশটির ভোটাররা আগামী ৫ নভেম্বর তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে ভোট দেবেন। ২০২০ সালে সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জো বাইডেন। তিনি এবারও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে প্রচারণার শেষে এসে তিনি সরে দাঁড়ান এবং কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, এবার কি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পাবে নাকি দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পেয়ে ক্ষমতায় বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

শুরু থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনের মাঠে নামে কমলা হ্যারিস। এসেই তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ছোট একটা লিড নিয়েছেন। সম্প্রতি এবিসি নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন হ্যারিস, বিপরীতে মাত্র এক শতাংশ কম সমর্থন রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এই দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় তা প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছিল। ওই বিতর্কের পর দুই জনেরই জনপ্রিয়তা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

গত কয়েকদিনে ট্রাম্প ও হারিসের মধ্যে এই ব্যবধান আরও কমে আসছে। বিভিন্ন জরিপে সেসব চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও এই ধরনের জরিপ কোনো ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করা বা কারো জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সঠিক মাপকাঠি নয়।

ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। কিন্তু প্রায় সবসময় একই দলকে ভোট দেয় কিছু কিছু রাজ্যের ভোটাররা। আবার এমন কিছু রাজ্য আছে যেখানে দুই দলের প্রার্থীদেরই জয় পাওয়ার সুযোগ আছে।

এগুলো এমন জায়গা যেখানে কেউ এগিয়ে থাকলে নির্বাচনে জয়ী হবে এবং পিছিয়ে পড়লে হেরে যাবে। এই রাজ্যগুলো যুদ্ধক্ষেত্র বা সুইং স্টেট হিসাবে পরিচিত।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের আগে মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এ তিন অঙ্গরাজ্যেই ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেগুলো রিপাবলিকানদের পক্ষে চলে যায়।

তবে পরবর্তীতে বাইডেন ২০২০ সালে সেগুলোতে জয়ী হন এবং কমলা হ্যারিস যদি এই রাজ্যগুলোতে নিজের প্রতিনিধিত্ব তৈরি করতে পারেন তাহলে নির্বাচনে তারই জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

হ্যারিস ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কখনো কখনো কোনো কোনো রাজ্যে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানেও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। পেনসিলভানিয়ায় বাইডেন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় সাড়ে চার শতাংশ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন।

তবে এসব সংশোধনীও ভোটের সঠিক চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরতে পারবে না। এছাড়া জরিপকারীদের আরও কিছু ফ্যাক্টরকে বিবেচনায় নিতে হবে এটা বুঝতে যে আগামী ৫ নভেম্বর ভোটাররা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে এগিয়ে?

আপডেট সময় : ০২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। দেশটির ভোটাররা আগামী ৫ নভেম্বর তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে ভোট দেবেন। ২০২০ সালে সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জো বাইডেন। তিনি এবারও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে প্রচারণার শেষে এসে তিনি সরে দাঁড়ান এবং কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, এবার কি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পাবে নাকি দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পেয়ে ক্ষমতায় বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

শুরু থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনের মাঠে নামে কমলা হ্যারিস। এসেই তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ছোট একটা লিড নিয়েছেন। সম্প্রতি এবিসি নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন হ্যারিস, বিপরীতে মাত্র এক শতাংশ কম সমর্থন রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এই দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় তা প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ দেখেছিল। ওই বিতর্কের পর দুই জনেরই জনপ্রিয়তা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

গত কয়েকদিনে ট্রাম্প ও হারিসের মধ্যে এই ব্যবধান আরও কমে আসছে। বিভিন্ন জরিপে সেসব চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও এই ধরনের জরিপ কোনো ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করা বা কারো জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সঠিক মাপকাঠি নয়।

ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। কিন্তু প্রায় সবসময় একই দলকে ভোট দেয় কিছু কিছু রাজ্যের ভোটাররা। আবার এমন কিছু রাজ্য আছে যেখানে দুই দলের প্রার্থীদেরই জয় পাওয়ার সুযোগ আছে।

এগুলো এমন জায়গা যেখানে কেউ এগিয়ে থাকলে নির্বাচনে জয়ী হবে এবং পিছিয়ে পড়লে হেরে যাবে। এই রাজ্যগুলো যুদ্ধক্ষেত্র বা সুইং স্টেট হিসাবে পরিচিত।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের আগে মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এ তিন অঙ্গরাজ্যেই ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেগুলো রিপাবলিকানদের পক্ষে চলে যায়।

তবে পরবর্তীতে বাইডেন ২০২০ সালে সেগুলোতে জয়ী হন এবং কমলা হ্যারিস যদি এই রাজ্যগুলোতে নিজের প্রতিনিধিত্ব তৈরি করতে পারেন তাহলে নির্বাচনে তারই জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

হ্যারিস ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কখনো কখনো কোনো কোনো রাজ্যে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানেও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। পেনসিলভানিয়ায় বাইডেন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় সাড়ে চার শতাংশ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন।

তবে এসব সংশোধনীও ভোটের সঠিক চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরতে পারবে না। এছাড়া জরিপকারীদের আরও কিছু ফ্যাক্টরকে বিবেচনায় নিতে হবে এটা বুঝতে যে আগামী ৫ নভেম্বর ভোটাররা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবেন।