ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মামলা ছাড়া গ্রেফতারে র‌্যাবের এখতিয়ারের বিষয়ে জানতে চান হাইকোর্ট

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩ ৯ বার পঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
মামলা ছাড়া কেবল কারো অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব কাউকে গ্রেফতার করতে পারে কিনা তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায়ও কাউকে গ্রেফতারের এখতিয়ার র‌্যাবের আছে কিনা আদালত জানতে চেয়েছেন। নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে ভূমি অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে আদেশ দেন।
আটকের পর থেকে সুলতানা জেসমিনকে সম্মানজনক জায়গায় (থানা অথবা কার্যালয়ে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে র‌্যাবের আচরণ আইনানুগ হয়েছে কিনা এ বিষয়েও জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর কারণ কী আসে এ-সংক্রান্ত তথ্যও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এসব বিষয়ের তথ্য এবং এ-সংক্রান্ত আইন, নথি ও সুলতানা জেসমিনের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওইদিনই পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনোজ কুমার নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ। এদিকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন আজ হাইকোর্টে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী সুলতানা জেসমিন উচ্চরক্তচাপে ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে নির্যাতন করা হয়নি। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে এনেছিলেন মনোজ কুমার ভৌমিক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক মন্টু বলেন, ‘আমার নাতি সৈকত ও ভাতিজা সোহাগকে এমনভাবে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে কমপক্ষে ছয় মাস কারোর কাছে এসব বিষয়ে মুখ না খোলে। জীবনের ভয়ে বর্তমানে আড়ালে থাকতে হচ্ছে। উচ্চ আদালত কী করেন এখন সেদিকেই চেয়ে আছি। উচ্চ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক ও উচ্চরক্তচাপজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলা হয়নি। এখানে অস্বাভাবিক বলতে কী বোঝানো হয়েছে সেটা খুঁজতে গেলেই সব বেরিয়ে আসবে।’ সুলতানা জেসমিনের ছোট ভাই সোহাগ বলেন, ‘রাষ্ট্র এর বিচার করতে চাইলে তাদের মতো করে করুক। আমরা এ ঝামেলায় নিজেদের জড়াতে চাই না।’ তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে গতকাল র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে আটক নারীর অসুস্থ হওয়া ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘মামলা ছাড়াই অযৌক্তিক ও বেআইনিভাবে তুলে নেয়া হয় নওগাঁ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনকে। খবরে যতটুকু এসেছে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাহলে প্রশ্ন হলো র‌্যাব তাকে ধরল কেন? কেন তাকে তুলে নিয়ে যাবে? তাছাড়া র‌্যাব একটি বিশেষ বাহিনী। প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি নিয়ে কাজ তো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। র‌্যাব কেন এ কাজ করবে?’ ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, ‘এ রকম ঘটনা আমরা প্রায়ই পত্রিকায় দেখছি। রাষ্ট্রযন্ত্রের আইন মেনে কাজ করার আমাদের যে প্রত্যাশা, জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সব জায়গায় সেটা ব্যাহত হচ্ছে। গণতন্ত্রেরও ঘাটতি আছে। সে কারণেই বেআইনি কাজগুলো হচ্ছে।’ নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনে থেকে ২২ মার্চ সকালে সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা জেসমিনকে উঠিয়ে নিয়ে যান। এর ঠিক ২ ঘণ্টা পর ওই নারী অসুস্থ বোধ করলে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় ২৪ মার্চ রামেকের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতন করা হয় সুলতানা জেসমিনকে।

মামলা ছাড়া গ্রেফতারে র‌্যাবের এখতিয়ারের বিষয়ে জানতে চান হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

নওগাঁ প্রতিনিধি:
মামলা ছাড়া কেবল কারো অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব কাউকে গ্রেফতার করতে পারে কিনা তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায়ও কাউকে গ্রেফতারের এখতিয়ার র‌্যাবের আছে কিনা আদালত জানতে চেয়েছেন। নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে ভূমি অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে আদেশ দেন।
আটকের পর থেকে সুলতানা জেসমিনকে সম্মানজনক জায়গায় (থানা অথবা কার্যালয়ে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে র‌্যাবের আচরণ আইনানুগ হয়েছে কিনা এ বিষয়েও জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর কারণ কী আসে এ-সংক্রান্ত তথ্যও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এসব বিষয়ের তথ্য এবং এ-সংক্রান্ত আইন, নথি ও সুলতানা জেসমিনের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওইদিনই পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনোজ কুমার নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ। এদিকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন আজ হাইকোর্টে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী সুলতানা জেসমিন উচ্চরক্তচাপে ভুগছিলেন। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে নির্যাতন করা হয়নি। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে এনেছিলেন মনোজ কুমার ভৌমিক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক মন্টু বলেন, ‘আমার নাতি সৈকত ও ভাতিজা সোহাগকে এমনভাবে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে কমপক্ষে ছয় মাস কারোর কাছে এসব বিষয়ে মুখ না খোলে। জীবনের ভয়ে বর্তমানে আড়ালে থাকতে হচ্ছে। উচ্চ আদালত কী করেন এখন সেদিকেই চেয়ে আছি। উচ্চ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক ও উচ্চরক্তচাপজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলা হয়নি। এখানে অস্বাভাবিক বলতে কী বোঝানো হয়েছে সেটা খুঁজতে গেলেই সব বেরিয়ে আসবে।’ সুলতানা জেসমিনের ছোট ভাই সোহাগ বলেন, ‘রাষ্ট্র এর বিচার করতে চাইলে তাদের মতো করে করুক। আমরা এ ঝামেলায় নিজেদের জড়াতে চাই না।’ তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে গতকাল র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে আটক নারীর অসুস্থ হওয়া ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘মামলা ছাড়াই অযৌক্তিক ও বেআইনিভাবে তুলে নেয়া হয় নওগাঁ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনকে। খবরে যতটুকু এসেছে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাহলে প্রশ্ন হলো র‌্যাব তাকে ধরল কেন? কেন তাকে তুলে নিয়ে যাবে? তাছাড়া র‌্যাব একটি বিশেষ বাহিনী। প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি নিয়ে কাজ তো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। র‌্যাব কেন এ কাজ করবে?’ ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, ‘এ রকম ঘটনা আমরা প্রায়ই পত্রিকায় দেখছি। রাষ্ট্রযন্ত্রের আইন মেনে কাজ করার আমাদের যে প্রত্যাশা, জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সব জায়গায় সেটা ব্যাহত হচ্ছে। গণতন্ত্রেরও ঘাটতি আছে। সে কারণেই বেআইনি কাজগুলো হচ্ছে।’ নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনে থেকে ২২ মার্চ সকালে সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা জেসমিনকে উঠিয়ে নিয়ে যান। এর ঠিক ২ ঘণ্টা পর ওই নারী অসুস্থ বোধ করলে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় ২৪ মার্চ রামেকের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতন করা হয় সুলতানা জেসমিনকে।