ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে
- আপডেট সময় : ০৭:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩২ বার পঠিত

জেলা প্রতিনিধি :
যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে চৌগাছার ইখলাস (২৯) নামে অটো ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ইখলাসের ভ্যান ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করে মরদেহ কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আটক দুইজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন। আটকরা হলেন- ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান এবং বিষহরি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে আশরাফুল আলম। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইখলাসের ভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইখলাস হোসেন চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইখলাস ভ্যান নিয়ে ভাড়ায় বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় মারুফ মল্লিকের ব্রয়লার ফার্মের পেছনে কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইখলাসের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ইখলাসের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের একটি দল কাজ শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে মেহেদী হাসানকে (২৯) যশোর সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর এলাকা থেকে আশরাফুল আলম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই ইখলাসকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে ইখলাসের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, ভ্যানটি নিজেদের দখলে নিয়ে বিক্রি করে অর্থ লাভের উদ্দেশ্যে ইখলাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে এবং পানিতে চুবিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ গোপন করতে চারটি ইট বেঁধে কপোতাক্ষ নদে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। আটক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।















