ভূমি উন্নয়ন সেবায় রোল মডেল এসিল্যান্ড-তাসফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৮৪৪ বার পঠিত

সানজিদা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: ২৯.০৯.২৫।।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি উন্নয়ন ও উন্মুক্ত ভূমি সেবার রোল মডেল চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট -কে এইচ তাসফিকুর রহমান।যিনি এই কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নিজেকে জনগণের সেবকের মনোভাব নিয়ে ভূমি সেবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনবান্ধব সেবা প্রদান করে আসছেন। সেবা গ্রহীতাদের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন মেধাবী এই এসিল্যান্ড। তার দক্ষতা আর দায়িত্বশীল আচরণ,সততার সাথে হয়রানিমুক্ত সেবায় উপজেলার ভূমি সেবা গ্রহীতারাও খুশি।
জানা যায়,গত বছরের ১৬ই জুলাই চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন তাসফিকুর রহমান।যোগদানের পরবর্তী সময় থেকে ভূমি অফিসকে অনিয়ম দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে জনস্বার্থে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
যেখানে অফিসে এসেই শুরুতেই সেবা গ্রহীতা সরাসরি কথা বলে পরামর্শ নিতে পারবেন ভূমি সহকারী কমিশনারের সঙ্গে। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সঠিক থাকলে দ্রুত সময়ে নামজারি প্রদানের ব্যবস্থা নেন। সেই সাথে ভূমি সহকারী কর্মকর্তাগণদের নামজারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইনে দাখিলের নির্দেশনা জারি করেন। জনসার্থে গ্রহণ করা উল্লেখিত উদ্যোগের জন্য এসিল্যান্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা সহ উপজেলা সর্বস্তরের মানুষ।
সরাসরি সেবাগ্রহীতা সোহাগ আলী, আলী কামরুল, রওশন, জায়েদ খাতুন, হেলাল উদ্দিন, জেহের আলী বলেন,এই কর্মকর্তা আসার পর থেকে অতীতের চেয়ে ভূমি সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি কোনো প্রকার অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়াই স্বচ্ছতার সাথে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তার কাছে যেয়ে কেউ খারাপ ব্যবহারের মুখোমুখি হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই। তিনি খুবই সৎ, দক্ষ কর্মকর্তা। তার মতো কর্মকর্তা পাওয়ায় আমরা ধন্য।
প্রাপ্ত তথ্যে ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সেবা গ্রহীতা সহ একাধিক শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেমন সৎ, পরিশ্রমি, বিনয়ী ও দক্ষ তেমনি আবার একজন মানুষ হিসেবে আদর্শ নির্লোভী।
তার কার্যালয়ে সেবা নিতে যাওয়া সকলের সাথে তার ভালো আচরণ আর আন্তরিকতা ভূমি সেবাকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। অতীতে যা সম্ভব হয়নি বর্তমান সময়ে এসিল্যান্ডের নিরলস প্রচেষ্টা আর একান্ত আন্তরিকতায় তা সম্ভব হয়েছে। ফলে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা সীমান্তবর্তী ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত (একসোনা বন্দোবস্ত) গ্রহণের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিলো;যা নিরসনে অসংখ্যবার সরজমিনে গিয়ে তদন্ত পূর্বক সততার সঙ্গে তিনি তা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এছাড়াও তিনি অত্র কার্যালয়ে যোগদানের পূর্বে সরকারি বেদখলকৃত সম্পদ উদ্ধারে আন্তরিক না হলেও বর্তমান এসিল্যোন্ড সরকারি বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে স্বচ্ছতা ও সততার সাথে তৎপর ছিলেন।এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের চারুলিয়া মৌজার দেড় একর জমিতে সরকারি সম্পদ (পুকুর) উদ্ধার করেন যা তিনি পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয় নিকট সায়রাত ভুক্ত করণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেন।
পাশাপাশি তার কঠোর পরিশ্রম,নিরলস প্রচেষ্টা আর একান্ত আন্তরিকতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে “ক” তালিকাভুক্ত জমি উদ্ধার পূর্বক লীজের আওতায় এনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন। ভূমি কর্মকর্তার নিরন্তর চেষ্টায় আর কঠোর অধ্যাবসায় উদ্ধারকৃত জমি থেকে সরকার অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়।দাপ্তরিক শত ব্যাস্ততার পরেও রাত কিংবা দিনে তিনি জনস্বার্থে ছুটছেন মাঠ পর্যায়ে।
তিনি যোগদানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন গিয়ে স্বচ্ছতা সাথে মোবাইল কোট পরিচালনা করে যাচ্ছেন।তার মোবাইল কোটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-অভিযুক্ত মাদক সেবন ও ব্যবসায়ী,অবৈধভাবে দিন কিংবা রাতের আধারে ফসলি জমি ও সরকারের ভৈরব নদীর মাটি খনন করে বিক্রি, খাস জমিতে অবৈধভাবে দোকান ঘর স্থাপনা,সরকারি প্রণোদনার সার অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রি,মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রি,বাজার মনিটরিং,বাল্যবিবাহ নিরোধ,গনউপদ্র সহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমান সহ সাজা প্রদান করতে সক্ষম হয়।
পাশাপাশি তিনি দর্শনা পৌর কার্যালয়ে সুনামের সঙ্গে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দাপ্তরিক সকল কাজ ঠিক রেখে যাতে পৌরবাসীদেরকেও কোন ভোগান্তি পৌহাতে না হয় সেজন্য প্রতিদিনই নির্দিষ্ট একটি সময়ে পৌর কার্যালয়ে প্রশাসক হিসেবে আন্তরিকতার সহিত কাজ করছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সাথে কথা হলে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা নিতে আসেন, স্যারের সঠিক পরামর্শ সরকারি নির্দেশনা মেনে শতভাগ সেবা প্রদানের জন্য চেষ্টা করছি। আমাদের প্রতি স্যারের পরামর্শ রয়েছে, কোন সেবা প্রত্যাশী এসে যেন কষ্ট না পাই, সমস্যা থাকলে তাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে হবে।
একইসাথে কোন রকম অনিয়ম দূর্নীতি আর হয়রানি ছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়ার জন্য। সর্বস্তরের ভূমিসেবা গ্রহীতারা ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা নিয়ে স্যারের সাথে সহজেই দেখা করে কথা বলতে পারছেন। এক্ষেত্রে স্যারের দরজা সর্বদাই উন্মুক্ত রয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের সম্পর্কে যতদূর জেনেছি, তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান একজন সরকারি কর্মকর্তা। এই ধরনের কর্মকর্তা প্রত্যেকটি সরকারি-বেসরকারি অফিসে বড়ই প্রয়োজন, এতে করে অনিয়ম দূর্নীতি লাঘব হবে।তিনি কার্যালয়টিতে সেবা নিতে আসা সর্বস্তরের জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন যা সরকারি সেবার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন সৎ দক্ষ পরিশ্রম আর নীতিবান কর্মকর্তা বদলিতে ব্যথিত হয় এবং আদর্শবান কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেন।
দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মুরশেদ বীন ফয়সাল বলেন, বর্তমান এসিল্যান্ড মহাদয় একজন সৎ যোগ্য সর্বোপরি বিচক্ষণ কর্মকর্তা।আমি ব্যক্তিগতভাবে স্যারকে খুব কাছ থেকে দেখেছি,তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শবান মানুষ।নিজেকে বিসর্জন দিয়ে ভূমি সেবা দিচ্ছে। তিনি যোগদানের পর আজকে পর্যন্ত কোন সেবা প্রাপ্তিদের কারও থেকে ভূমি সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির কথা শুনেনি। অত্র দপ্তরে সর্বসাধারণ সেবা পেয়ে খুশি হচ্ছে।
সাংবাদিক এ নেতা আরও বলেন, সরকারের সকল দপ্তরে সৎ, দক্ষ আদর্শবান সর্বোপরি দায়িত্বশীল পরিশ্রমী কর্মকর্তার বড়ই প্রয়োজন। সেবার মান বৃদ্ধিতে নিজের ইচ্ছে শক্তি তথা মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনগণের কষ্ট লাঘবে তিনি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সর্বস্তরের জনগণের আস্থা,বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করে জনবান্ধন”ভূমি কর্মকর্তা” হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করেছেন।কাজেই আমরা চাই আগামীতে এমন কর্মকর্তার হাত ধরেই ভূমি সেবায় দূর্নীতি মুক্ত হবে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমানের সাথে সম্প্রতি সময়ে গণমাধ্যম কর্মীর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি যোগদানের পর অত্র কার্যালয় সহ সকল ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় গুলোকে ভূমি সেবা গ্রহীতাদের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে নির্দেশনা প্রদান করি। আপনাদের সহযোগিতা ও সকলের ভালোবাসায় সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।
আমার অধীনস্থ ভূমি সেবায় নিয়োজিত সকলেই জনগণের সেবক-এই কথাটি স্মরণ করিয়ে সততার সহিত কাজ সম্পাদন করতে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এখনো পর্যন্ত আমার পক্ষ থেকে সম্মানিত সকল সেবা গ্রহীতাদের পরামর্শ তথা উৎসাহ দিয়ে এসেছি,
যার কাজ তাকেই সরাসরি অফিসে আসতে। কারণ অন্য কারো হাত দিয়ে আসা মানেই সেখানে মধ্যস্থতাকারি অর্থাৎ দালাল ঢুকে পড়া। তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার লক্ষ্যে আমি ইউনিয়ন ভূমি সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দদের দ্রুত সময়ের মধ্যে নামজারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনলাইনে দাখিলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করি। যার ফলে অনেকাংশই মধ্যস্তাকারীদের দৌরাত্ব কমবে বলে আশাবাদী।
আবার অল্প সময়ের মধ্যে সেবা প্রত্যাশীরা সঠিক সেবা পাবেন। মধ্যস্থতাকারীরা সব সময় অপপ্রচার চালাই যে,টাকা ছাড়া ভূমি অফিসে কাজ হয় না,ফাইল আটকে থাকে।সত্যিকার অর্থে তাদের এমন অপপ্রচার না করলে অবৈধ আয় বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখিত বিষয়ে সকল সেবা গ্রহীতাদের আপনাদের মাধ্যমে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রয়োজনে কাগজপত্র সঠিক থাকা সাপেক্ষে সরকারি নিয়ম মেনে ভূমি অফিসে আসা সকল সেবা গ্রহীতাদের জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।














