ব্রিটিশ দুই ফার্মের হাত ধরে আইআরজিসিরের শ্যাডো ব্যাংকিং চক্র
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৭৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রবিবার ।। ০৮.০৩.২০২৬ ।।
দুই ব্রিটিশ কোম্পানি আইআরজিসির বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’-এ জড়িত: দ্য টেলিগ্রাফ অনুসন্ধান
যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠান ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংক্রান্ত গোপন ব্যাংকিং কার্যক্রমে সক্রিয়, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের অনুসন্ধান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে নিবন্ধিত এই দুটি কোম্পানি মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের আড়ালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ‘জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedcex Exchange Ltd) এবং ‘জেডক্সিওন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedxion Exchange Ltd) নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটি লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন এলাকায় বিলাসবহুল ঠিকানায় নিবন্ধিত হলেও বাস্তবে কোনো অফিস বা কর্মী উপস্থিত নেই। নথিতে এদের ব্যবসা ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে দেখানো হলেও কার্যত তারা আইআরজিসি-কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (OFAC) চলতি বছরের শুরুতে এই কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। OFAC জানিয়েছে, জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেছে, যার একটি বড় অংশ আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ রয়েছে, দুটি কোম্পানি ইরানি ধনকুবের বাবাক জানজানির সঙ্গে যুক্ত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে জানজানির ওপর ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষক সংস্থা টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শত কোটি ডলারের লেনদেন করেছে। OFAC অনুসারে, কোম্পানিগুলো সরাসরি আইআরজিসি-কে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার দাবি বেড়ে গেছে। শ্যাডো ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার অ্যালিসিয়া কার্নস বলেছেন, ব্রিটিশ মাটি ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সংগঠন আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে। তিনি এই দুই কোম্পানি এবং আইআরজিসি-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০১৮ সালে ইরান সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে আসার পর থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে তারা সমান্তরাল ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে। নিবন্ধিত ঠিকানার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিএসকিউ গ্রুপ’ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর তারা কোম্পানি দুটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই মুহূর্তে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে মন্তব্য করেনি।


























