বিক্রি হলো পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, দাম ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ।। বৃহস্পতিবার।। ২৫ ডিসেম্বর।। ২০২৫।।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা নানা জল্পনা ও উদ্যোগের পর অবশেষে পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) মালিকানা হস্তান্তর করেছে।
(২৩ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সরাসরি সম্প্রচারিত একটি প্রতিযোগিতামূলক নিলামের দ্বারা রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থার ৭৫ শতাংশ শেয়ার ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলারে কিনে নেয় পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরিফ হাবিব লিমিটেড।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই বেসরকারীকরণ উদ্যোগকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কেননা গত বছর প্রথম দফায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি সফল হয়নি। এবারের নিলামে করাচিভিত্তিক আরিফ হাবিব লিমিটেড স্থানীয় আরও দুই প্রতিষ্ঠান লাকি সিমেন্ট ও এয়ারব্লুকে ছাড়িয়ে দিয়ে বিজয়ী হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি এখন পিআইএর ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করবে ও আগামি তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনার সুযোগও পাবে।
করাচিভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টপলাইন সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৯০শতাংশের অধিক অংশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। অবশিষ্ট অংশ ব্যয় করা হবে প্রতিষ্ঠানের জমে থাকা ঋণ পরিষোধে। বর্তমানে চুক্তিটি সম্পূর্ণ কার্যকর হতে কেবল সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত অনুদানের অপেক্ষা রয়েছে।
পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক বেসরকারীকরণ উদ্যোগটি মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অন্যতম কঠিন শর্ত ছিল। আইএমএফের শর্ত পূরণে পাকিস্তান সরকার গত কয়েক মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম এবং করহার বাড়ানোয় জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে পাকিস্তান সরকার আগেই এয়ারলাইন্সের ৮০০ কোটি রুপির বেশি ঋণের মধ্যে ৬৭০ কোটি রুপি একটি আলাদা হোল্ডিং কোম্পানিতে স্থানান্তর করে, যার পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নিজেই নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই অর্জনকে বেসরকারি খাতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আরিফ হাবিব লিমিটেডের জন্য সামনে এখনও বহু বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
বিশেষ করে পুরোনো হয়ে পড়া বিমানবহরের আধুনিকায়ন এবং অতিরিক্ত জনবল ও পরিচালনা ব্যয় পুনর্গঠন করাই হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব।
















