ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলা সিনেমার ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর

আয়েশা আক্তার:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪ ২৭ বার পঠিত

বর্ণাঢ্য সংগীত জীবনে গেয়েছেন কয়েক হাজার গান। তার মধ্যে জনপ্রিয় গানের সংখ্যা যে কত; তাও গুনে শেষ করা যাবে না। তার কণ্ঠ নিঃসৃত গান শোনেনি, বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। সিনেমার গানে তো তিনি অদ্বিতীয়। সেজন্যই তাকে বলা হয় বাংলা সিনেমার ‘প্লেব্যাক সম্রাট’। তিনি হলেন কিংবদন্তি এন্ড্রু কিশোর।

মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন এন্ড্রু কিশোর। আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীতে পাঠ গ্রহণ শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন।

এন্ড্রু কিশোর চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’।

তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি গেয়ে শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৮৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের তিনটি গানে কণ্ঠ দেন। গানগুলো হলো- ‘আমার সারা দেহ..’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের..’। এমন অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে।

এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গানের তালিকা করাও ভীষণ কঠিন কাজ। তবুও কয়েকটি গানের নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন। যেমন- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘সবাইতো ভালোবাসা চায়’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি বন্ধু আমার চিরসুখে থাকো’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘ও সাথী রে যেও না কখনো দূরে’, ‘কী যাদু করেছো বলো না’, ‘প্রতিদিন ভোর হয়’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘এতো প্রেম ছিল’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’, ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ’ ইত্যাদি।

গান গেয়ে এন্ড্রু কিশোর আকাশছোঁয়া খ্যাতি পেয়েছেন। সেই সঙ্গে জিতেছেন বহু পুরস্কারও। শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার ও দুইবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জীবদ্দশায় এসব পুরস্কারের চেয়েও অগণিত শ্রোতার ভালোবাসাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করতেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত এই শিল্পী। ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী। ভক্ত-শ্রোতারা আজও মন থেকে স্মরণ করেন, তার প্রতি ভালোবাসা জানান।

বাংলা সিনেমার ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর

আপডেট সময় : ০২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

বর্ণাঢ্য সংগীত জীবনে গেয়েছেন কয়েক হাজার গান। তার মধ্যে জনপ্রিয় গানের সংখ্যা যে কত; তাও গুনে শেষ করা যাবে না। তার কণ্ঠ নিঃসৃত গান শোনেনি, বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। সিনেমার গানে তো তিনি অদ্বিতীয়। সেজন্যই তাকে বলা হয় বাংলা সিনেমার ‘প্লেব্যাক সম্রাট’। তিনি হলেন কিংবদন্তি এন্ড্রু কিশোর।

মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন এন্ড্রু কিশোর। আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীতে পাঠ গ্রহণ শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন।

এন্ড্রু কিশোর চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’।

তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি গেয়ে শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৮৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের তিনটি গানে কণ্ঠ দেন। গানগুলো হলো- ‘আমার সারা দেহ..’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের..’। এমন অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে।

এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গানের তালিকা করাও ভীষণ কঠিন কাজ। তবুও কয়েকটি গানের নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন। যেমন- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘সবাইতো ভালোবাসা চায়’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি বন্ধু আমার চিরসুখে থাকো’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘ও সাথী রে যেও না কখনো দূরে’, ‘কী যাদু করেছো বলো না’, ‘প্রতিদিন ভোর হয়’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘এতো প্রেম ছিল’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’, ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ’ ইত্যাদি।

গান গেয়ে এন্ড্রু কিশোর আকাশছোঁয়া খ্যাতি পেয়েছেন। সেই সঙ্গে জিতেছেন বহু পুরস্কারও। শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার ও দুইবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জীবদ্দশায় এসব পুরস্কারের চেয়েও অগণিত শ্রোতার ভালোবাসাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করতেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত এই শিল্পী। ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী। ভক্ত-শ্রোতারা আজও মন থেকে স্মরণ করেন, তার প্রতি ভালোবাসা জানান।